হবিগঞ্জের বাহুবল থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে মোবাইল ফোনে অশালীন ভাষায় মন্তব্য করার অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস চৌধুরী তুষারকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
আজ রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হবিগঞ্জ শহরের শায়েস্তানগর এলাকায় অবস্থিত তুষার চৌধুরীর নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।
আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কর্মকর্তা শামীম ইকবাল।
এর আগে গতকাল শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাহুবল থানার ওসিকে উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় গালাগালির একটি অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে। অডিওটি দ্রুত ভাইরাল হলে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তে নেয় এবং এরই ধারাবাহিকতায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
আটকের আগে বেলা সাড়ে ১১টায় গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন তুষার চৌধুরী। এ সময় তিনি বলেন, “আমি গত দুই মাসের মধ্যে কোনো দিন ওসিকে ফোনও দিইনি। আমি আমার ম্যানেজারকে গালাগাল করেছি, সেটিকে এডিট করে কেউ ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছে।”
এদিকে তুষার গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রায় ৩০ মিনিট ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। রমজানে জনভোগান্তির কথা বিবেচনা করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়ে তারা সড়ক ছেড়ে দেন। অন্যথায় ২৪ ঘণ্টা পর আবারও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধসহ কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন নেতাকর্মীরা।
তারা আরও অভিযোগ করেন, ওসি সাইফুল ইসলাম বাহুবল থানায় যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন অপরাধ জগতের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন এবং নানা অপরাধের সঙ্গে যোগসাজশে জড়িত। সম্প্রতি স্থানীয় নেতাকর্মীরা বিষয়টি জানতে পেরে ওসিকে সতর্ক করলে তিনি তুষার ও নেতাকর্মীদের ওপর ক্ষিপ্ত হন। এর জের ধরেই তুচ্ছ ঘটনায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে উপজেলা বিএনপির সভাপতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
নেতাকর্মীরা ওসির অপসারণসহ তুষার চৌধুরীর দ্রুত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।
অপরাধ ও দুর্নীতি: পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে বড় রদবদলের আভাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
অপরাধ ও দুর্নীতি: শেখ হাসিনাসহ পলাতক ৬ আসামির বিরুদ্ধে বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ