কুষ্টিয়া-৪ আসনে কোন্দলে ধানের শীষ পরাজয়
দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে অন্তর্কোন্দল, সমন্বয়হীনতা ও মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে দলের নীতি-আদর্শের সঙ্গে বেঈমানি করার কারণেই কুষ্টিয়া-৪ আসনে ধানের শীষের পরাজয় হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আজ রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কুমারখালীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা এ অভিযোগ করেন। কুমারখালী বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে কুমারখালী ও খোকসা উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন খোকসা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সৈয়দ আমজাদ আলী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুমারখালী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম, কুমারখালী উপজেলা বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক, খোকসা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনিস উজ জামান, খোকসা পৌর বিএনপির সভাপতি এ জেড জি রশিদসহ অন্তত অর্ধশত নেতাকর্মী।
লিখিত বক্তব্যে আমজাদ আলী বলেন, “কুষ্টিয়া-৪ আসনে সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী ধানের শীষের হেভিওয়েট প্রার্থী ছিলেন। তিনি এ আসনের সাবেক দুইবারের এমপি। তাঁর বাবা সৈয়দ মাসুদ রুমীও এমপি ছিলেন। তবে দলীয় কোন্দল, সমন্বয়হীনতা ও মনোনয়নবঞ্চিত নেতা-সমর্থকদের বেঈমানির কারণে গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী সামান্য ভোটে পরাজিত হয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, “এই আসনে মেহেদী রুমী ছাড়াও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ সাদী ও কুমারখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনছার আলী দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু দল মেহেদীকে মনোনয়ন দিলেও সাদী ও আনছার স্বতন্ত্র নির্বাচন করার জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেন। পরে আনছারের প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা হয় এবং সাদী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। তবুও এই দুই নেতা ও তাদের সমর্থকরা শেষ পর্যন্ত ধানের শীষের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রকাশ্যে ভোট করেন।”
তাদের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে ধানের শীষের প্রার্থীকে পরাজিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক তদন্ত করে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ সাদী মুঠোফোনে বলেন, “এটা কীভাবে সম্ভব? আমরা বাদ দিলে কি বিএনপি থাকে? আমি, আনছার ভাই, আলাউদ্দিন সাহেব, লুৎফর ভাই—আমরাই তো কুমারখালী-খোকসার নেতা। আমরা যদি ভোট না করতাম, তাহলে এত ভোট আসত কোথা থেকে?” তাঁর ভাষ্য, কিছু নেতাকর্মী নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার জন্য মিথ্যা অভিযোগ করছেন।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে এক লাখ ৪৮ হাজার ২০১ ভোট পেয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. আফজাল হোসেন এমপি নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী এক লাখ ৩৯ হাজার ৬০৩ ভোট পেয়েছেন।
অপরাধ ও দুর্নীতি: পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে বড় রদবদলের আভাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
অপরাধ ও দুর্নীতি: শেখ হাসিনাসহ পলাতক ৬ আসামির বিরুদ্ধে বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ