মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার সর্বত্রই পবিত্র রমজান মাসের শুরুতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের দাম ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী চক্ররা পণ্যসামগ্রী গোদামজাত করে বাজারে অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রয় করছে। বাজারে সুষ্ঠু মনিটরিং না থাকার দরুণ অসাধু ব্যবসায়ী বেপোরোয়া হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে মুরগি ফল, খাসি, গরুর মাংস, লেবু ও খেজুরের দাম উল্লেখ্যযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজার সুষ্ঠু মনিটরিং না থাকায় সব পণ্যের দাম হাঁকিয়ে নিচ্ছে ব্যবসায়ীরা। গতকাল বাজার ঘুরে দেখা গেছে, লেবু ২০০ থেকে ২২০ টাকা, গরুর মাংস ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা কেজি, খাসির মাংস ১১০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা, মুরগি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি, শসা ৭০ থেকে থেকে ৮০ টাকা কেজি, বেগুন ৬০ টাকা থেকে ৭০ টাকা কেজি, কাঁচা মরিচ ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি, কলা ৩০ থেকে ৪০ টাকা হালি, খেজুর ২৫০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা কেজি, বিক্রি করা হচ্ছে। মাছ, মুরগি খাসি ও গরুর মাংস বাজারের কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা অস্থির করতে বাজারে সিন্ডিকেট তৈরি করে রেখেছে। পবিত্র রমজান মাসে বাজার মনিটরিং জোরদার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রনে রাখার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন এলাকার সাধারণ ক্রেতারা। গত শুক্রবার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, হঠাৎ করেই গরুর মাংসের দাম প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, খাসি ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মুরগি ১৭০ টাকা থেকে ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ঘিওর বাজারের একজন মাংস ব্যবসায়ী বলেন বাজারে খাসি এবং গরুর দাম অনেক বেশি। তাই দাম বাড়িয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে।
ঘিওর বাজারে মুরগি ব্যবসায়ী আবু দাউদ বলেন, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে খামারে মুরগি না থাকায় বাইরে থেকে বেশি দামে মুরগি কিনে আনতে হচ্ছে। এজন্য আমরা বেশি দামে মুরগি বিক্রি করছি। বর্তমানে ঘিওর বাজারে পোল্টি মুরগি ২০০ টাকা, সোনালী মুরগি প্রতি কেজি ৩৭০ টাকা দেশি মুরগি ৬০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। তবে সবজির বাজার তুলনামূলোকভাবে স্থিতিশীল থাকলেও কিছু পণ্যের দাম চড়া রয়েছে। ঘিওর বাজারের ফল ব্যবসায়ী মন্তোস বলেন, রমজান মাসে ফলের চাহিদা অনেক বেড়েছে। দাম নাগালের বাইরে থাকায় ইফতারের জন্য একটি দুটি করে ফল কিনছেন ক্রেতারা। গত কয়েক দিন ধরে ঊর্ধ্বগতিতে ফলের দাম বাড়ছে। খজুরের দাম অনেক বেশি। তবে অন্যান্য ফলের দামও বেশি। ক্রেতারা ক্ষোভ করে বলেন, প্রতি বছরই রমজান মাসে সকল প্রকার নৃত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ে যায়। এবার তার ব্যতিক্রম হয়নি। মাছ, মাংস ও মুরগির দাম অনেক বেশি। তবে সবজীর দাম আমাদের সাধ্যের মধ্যে আছে। সব চেয়ে আশ্চাযের্র বিষয় হচ্ছে এক মাস আগে প্রতি কেজি লেবু ১৫-২০ টাকা দরে বিক্রি হতে কিন্তু বর্তমানে প্রতি কেজি লেবু ২০০ টাকা থেকে ২২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতাদের ভাষ্য, পাইকারি বাজারে লেবুর তীব্র সংকট। প্রতি কেজি লেবু কিনতে হচ্ছে ১৫০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে। এলাকার অভিজ্ঞ মহল ও সুশিল সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, বাজারের ব্যবসায়ীদের একাধিক গোডাউন আছে। গোডাউনগুলোতে চাল, ডাল, তেলসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মজুত করে রাখে। প্রতি বছর রমজান মাসের শুরুতেই এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীরা কৌশলে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করে। এলাকার লোকজন ভয়ে মুখ ফুটে কেউ কোনো ধরনের প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাশিতা-তুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, অচিরেই বাজার পরিদর্শন করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।