image
কালীগঙ্গা নদীর উপর সেতু না থাকায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন দুই পারের হাজার হাজার মানুষ -সংবাদ

মানিকগঞ্জে কালীগঙ্গা নদীতে ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের সেতুতে পারাপার

প্রতিনিধি, ঘিওর (মানিকগঞ্জ)

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার পুটাইল ইউনিয়নের হিজলাইন এলাকায় কালীগঙ্গা নদীর উপরে সেতু না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন নদীর দুই পারের প্রায় ২০/২৫টি গ্রামের হাজার হাজার লোকজন। নদীর উপর একটি সেতুর জন্য সরকারি দপ্তরে বছরের পর বছর ঘুরে ক্লান্ত হিজলাইনবাসী। নিরুপায় হয়ে এলাকাবাসীর কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে নির্মাণ করেন বাঁশ-কাঠের সাঁকো। সেই সাঁকো দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ দুপারের সাধারণ মানুষ। কালীগঙ্গা নদীর উপর একটি পাকা সেতু এলাকাবাসীর দীর্ঘ দিনের দাবি থাকলেও কেউ এগিয়ে আসেনি। নিজেদের তৈরি নড়বড়ে বাঁশ কাঠের সাঁকোই দুপারের লোকদের ভরসা।

মানিকগঞ্জ সদর ও পৌরসভার কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন এ রাস্তায় চলাচল করে থাকে। কৃষিপণ্য নিয়ে হাট-বাজারে যাওয়া প্রায় অসম্ভব। বাধ্য হয়ে কৃষকরা তাদের পণ্য কম দামে বিক্রি করে দেন। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ভয়ে ভয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পার হয়ে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করে থাকে। ব্যবসায়ীরা তাদের সব প্রকার নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আনা নেওয়ার কাজে চরম অসুবিধা হচ্ছে। বন্যার সময় দুইপারের লোকজনের দুঃখ কষ্টের সীমা থাকে না।

নদীর উত্তর পারের নিজাম মিয়া বলেন আমার নাতীন ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ে। প্রতিদিন বাঁশের সাঁকো পার করে দেই। বাড়ি ফিরে না আসা পর্যন্ত রাস্তার দিকে চেয়ে থাকি। দেরি হলেই দৌড়ে যাই নদীর পারে। এভাবে কতদিন চলবে জানি না। তিনি আরো বলেন দরকার ছাড়াই কত জায়গায় ব্রিজ দেখি আর দরকারি জায়গায় ব্রিজ নাই। এ জীবনে আর মনে হয় ব্রিজ দেখতে পারব না। দুর্ঘটনার ভয়ে অনেকে নিয়মিত বিদ্যালয়ে যায় না। সেতু না থাকায় ১৫ কিমি ঘুরে জেলা শহরে যেতে হয় এলাকাবাসীর। তাদের একটাই দাবি দ্রুত নদীর উপর একটি পাকা সেতু করার জন্য।

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। স্থানটি সরেজমিনে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্তা নেওয়া হবে।

এলাকার অভিজ্ঞ মহল ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অবিলম্বে সেতুটি নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি