image
শেরপুর : গজনী সরকারি বনাঞ্চলে অবৈধভাবে গড়া বাড়ি উচ্ছেদ করছে বন বিভাগ -সংবাদ

গজনী বনাঞ্চলে অবৈধ দখল উচ্ছেদ : স্থানীয়রা বলছেন ‘আইওয়াশ’

প্রতিনিধি, ঝিনাইগাতী (শেরপুর)

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার রাংটিয়া রেঞ্জের গজনী সরকারি বনাঞ্চলে অবৈধভাবে গড়ে তোলা তিনটি বাড়ি উচ্ছেদ করেছে বন বিভাগ। গত বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে শুরু হওয়া এই অভিযানে এলাকাবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বন বিভাগের এই অভিযানকে কিছু স্থানীয়রা ‘আইওয়াশ’ বা লোকদেখানো বলে মনে করছেন, কারণ ২ হাজার একর বনভূমি দখল হয়ে থাকলেও মাত্র তিনটি ঘর উচ্ছেদ করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের অনুমতি ছাড়াই গজনী বিটের গান্ধীগাঁও মৌজায় এসব ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, এসব ঘর গড়ে তোলার পেছনে কোনো না কোনো বন কর্মকর্তার সহযোগিতা ছিল কিনা। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, একদিনে কিংবা গোপনে এই ধরনের স্থায়ী ঘর নির্মাণ সম্ভব নয়, তাই এই বসতবাড়িগুলো গড়ে উঠতে কোনো ধরনের প্রশাসনিক যোগসাজশের ইঙ্গিত মিলছে।

তবে, বন বিভাগ দাবি করছে যে, শুধু তিনটি ঘর উচ্ছেদ করা হয়নি, পুরো ২ হাজার একর জমি উদ্ধার করতে তারা ‘বনদস্যুদের’ বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তা এবং সদস্যরা এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন এবং জবর-দখলকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

সহকারী বন সংরক্ষক তানভীর আহমেদ, রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সুমন মিয়া, মো. তহিদুল ইসলাম, বিট কর্মকর্তা সালেহীন নেওয়াজ ও ফাহিম মুনতাসীরসহ ফরেস্ট গার্ড ও ইআরটি সদস্যরা অভিযানে অংশ নেন। তারা জানিয়েছেন, সরকারি বনভূমি রক্ষা এবং প্রাকৃতিক বন সংরক্ষণের লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বন বিভাগের মতে, এই অভিযান শুধু লোকদেখানো নয়, বনভূমি দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নেপথ্যের বনদস্যুদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি