কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলাজুড়ে বালু খেকোদের দৌরাত্ম্য চলছে। বিভিন্ন ছড়াখাল ও মাতামুহুরী নদী থেকে দিন-রাত সেলো মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি বিকেলে উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভান্ডারির ডেবা এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগে সরেজমিন প্রতিবেদন করতে যান তিন সাংবাদিক। তাঁরা হলেন দৈনিক কালের কণ্ঠের ছোটন কান্তি নাথ, আমার দেশের ইকবাল ফারুক এবং দৈনিক সংবাদের জিয়াবুল হক।
অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরই বালু খেকোদের একটি দল অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তিন সাংবাদিক আহত হন। তাঁদের মধ্যে জিয়াবুল হকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অন্য দুই সাংবাদিক প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাসায় রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হারবাং ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভান্ডারির ডেবা এলাকার একটি ছড়াখাল থেকে নাজেম উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি সেলো মেশিন বসিয়ে দিন-রাত বালু উত্তোলন করছেন। পরে রাতের আঁধারে ট্রাকযোগে এসব বালু বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। স্থানীয়রা ভয়ে এ বিষয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে এলাকার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
আরও জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট ছড়াখাল থেকে বালু উত্তোলনের জন্য নাজেম উদ্দিন সরকারিভাবে অনুমতি পেলেও নির্ধারিত শর্ত ভঙ্গ করে অতিরিক্ত এলাকা থেকে সেলো মেশিনের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করছেন, যা ইজারার শর্তের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিযোগ।
আহত সাংবাদিক ইকবাল ফারুক বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলে গেলে নাজেম উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।
তিনি বলেন, “আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই হামলা শুরু হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা আমাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। কথা বলার সুযোগ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।”
তিনি আরও জানান, হামলায় জিয়াবুল হকের একটি হাত গুরুতরভাবে জখম হয় এবং তাঁর হাতের হাড় ভেঙে গেছে। অন্য দুই সাংবাদিকও মাথা ও হাত-পায়ে আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরে স্থানীয় লোকজন এসে তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন কর্মরত সাংবাদিকরা। তবে হামলার প্রায় ২০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও মূল অভিযুক্তকে আটক করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, “সাংবাদিকদের মারধরের বিষয়ে কেউ আমাকে অবগত করেননি। লিখিত বা মৌখিক কোনো অভিযোগ পাইনি। খোঁজ নিয়ে দেখছি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলায়ার বলেন, “সাংবাদিকদের ওপর হামলা চরম অন্যায়। কোনোভাবেই এটি গ্রহণযোগ্য নয়। এসিল্যান্ডকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হবে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
আন্তর্জাতিক: ভারতের ঝাড়খণ্ডে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বিধ্বস্ত, নিহত ৭