image
রাজশাহী : বিল কুমারী বিলে ধান খেত -সংবাদ

সোনালি স্বপ্নের অপেক্ষায় বিলকুমারী

জেলা বার্তা পরিবেশক, রাজশাহী

রাজশাহীর তানোরের বিস্তীর্ণ প্রান্তরে যখন ভোরের কুয়াশা নরম চাদরের মতো নেমে আসে, তখন তানোর উপজেলার বুকজুড়ে জেগে ওঠে এক সবুজ স্বপ্ন। সেই স্বপ্নের নাম বিল কুমারী বিল। ঋতুর পালাবদলে যে বিল কখনও রূপ নেয় ঢেউ খেলানো জলরাশিতে, আবার কখনও সবুজ ধানের চাদরে ঢেকে যায় প্রকৃতির এই রূপান্তর যেন সৃষ্টিকর্তার এক অপার শিল্পকর্ম। যতদূর চোখ যায়, বোরো ধানের কচি পাতার দোলা; মাটির গন্ধে, কুয়াশার স্পর্শে আর কৃষকের ঘামে মিশে তৈরি হয় জীবনের অনুপম এক উপাখ্যান।

এই বিল শুধু সৌন্দর্যের নয়, এটি জীবন-জীবিকার এক অমূল্য আধার। বর্ষায় যখন পানি থইথই করে, জেলে পরিবারের জালে ধরা পড়ে আশার রূপালি মাছ। আর শীতের কনকনে প্রহরে, কাঁপতে কাঁপতে কৃষক নামেন জমিতে লাঙ্গলের আঁচড়ে, ট্রাক্টরের শব্দে, আর ঠান্ডা পানিতে নেমে বীজ রোপণের শ্রমে গড়ে ওঠে আগামীর অন্নভান্ডার। তিন-চার মাসের যতেœ সেই বীজ হয়ে ওঠে সোনালি স্বপ্ন, শীষে ভরে ওঠে মাঠ।

বিল কুমারী বিল তাই কেবল একটি জলাভূমি নয় এটি তানোরের প্রাণ, মানুষের আশা-ভরসার ঠিকানা, আর প্রকৃতির অমলিন আশীর্বাদের প্রতিচ্ছবি।

রাজশাহীর তানোরে বিল কুমারী বিলের বুক চিরে বোরো চাষে সবুজের সমারহে অপররুপ সৌন্দর্যের হাতছানি দিচ্ছে প্রকৃতি। এই বিল কুমারী বিল ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে একেক সময় একেক রূপ ধারণ করে। অপরদিকে এই বিলটি বিল পাড়ের মানুষের জন্য সৃষ্টি কর্তার এক মহা আশির্বাদ। বর্ষ মৌসুমে জেলে পরিবার গুলো মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে এবং বোরো মৌসুমে ধান চাষ করা হয়।

যতদূর চোখ যায় বোরো ধানের সবুজ পাতা। ধান চাষের জন্য প্রত্যন্ত অঞ্চল হিসেবে ধরা হয় তানোর উপজেলাকে। এ উপজেলায় যেমন ধান চাষ হয় তেমন আলুসহ বিভিন্ন চৈতালি ফসলও উৎপাদন হয় বাম্পার। তবে ধানের চাষ হয় একটু বেশি। বিশেষ করে বোরো ধান চাষ হয় সবচেয়ে বেশি। বোরো চাষের সময়টা শীতকাল হওয়ায় কনকনে শীতে বোরো চাষ করতে কষ্ট পোহাতে হয় চাষিদের। ভোররাত থেকে দুপুর পর্যন্ত লাঙ্গল ও ট্রাক্টর দিয়ে বোরো জমি চাষের জন্যে হাল চাষ করা হয় এবং ভোর থেকে ঠান্ডা পানিতে নেমে বোরো ধানের বীজ তুলে সেই বীজ জমিতে রোপণ করে শ্রমিকরা। ৩-৪ মাস রোপণকৃত বীজের পরিচর্যা করে বড় করে তোলা হয় ধান।

উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকের কষ্টে অর্জিত বোরো ধানের সবুজ পাতায় ছেয়ে গেছে প্রতিটি মাঠ। আর মাসখানেকের মধ্যে পুরোদমে শুরু হবে ধানের শীষ বের হওয়া। তানোর পৌর এলাকার গুবির পাড়া গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান জানান, তিনি এবার ২০ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করবেন। ইতোমধ্যে বিলকুমারী বিলের জমিতে তার ৭ বিঘা জমিতে বোরো রোপণ সম্পূর্ণ হয়েছে। অল্প কিছু দিনের মধ্যে ধানের শীষ বের হওয়া শুরু করবে। এবার প্রতিটি মাঠে বোরো ধানের গাছ ভালো হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে ফলনও ভালো হবে। তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মেদ জানান, এবারে বোরো চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪ হাজার ১৩০ হেক্টর। আশা করা যাচ্ছে, কোনো দুর্যোগ না হলে এবারও ফলন ভালো হবে ও ভালো দামও পাবে কৃষক। তিনি বলেন, বিল কুমারী বিল এই এলাকার মানুষের জন্য সৃষ্টিকর্তার এক মহাআশির্বাদ। তিনি বলেন এই বিলে মাছ ও ধান দুই ধরনেরই খাদ্য পাওয়া যায়।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি