বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের আমিনপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামে গড়ে উঠেছে বিষমুক্ত সবজি বাগান। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ‘পার্টনার’ প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ নিয়ে গ্রামীণ নারীরা এখন পরিবারের পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাড়তি আয়েও ভূমিকা রাখছেন।
দেখা যায়, আমিনপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়ির আঙিনায় পরিকল্পিতভাবে সবজি চাষ করা হয়েছে। নিচু স্তরে কলমি ও পালংশাক, তার ওপরে মূলা, গাজর ও পেঁয়াজ, মাঝারি স্তরে বেগুন, টমেটো, মরিচ ও বরবটি, উঁচু মাচায় লাউ ও করলা এভাবেই একই জায়গায় বহুমাত্রিক চাষাবাদ চলছে। এতে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে।
‘প্রোগ্রাম অন অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) ফিল্ড স্কুলের মাধ্যমে ২৫ জন কৃষক-কৃষাণীকে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বিনামূল্যে বীজ ও সার সরবরাহ করা হয়।
স্থানীয় উপকারভোগী নাদিয়া আক্তার ও জাহানারা বেগম জানান, আগে বাড়ির আঙিনা অব্যবহৃত পড়ে থাকত। এখন সেখানে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করে নিজেদের চাহিদা মেটানোর পাশাপশি বাড়তি কিছু আয়ও হচ্ছে। তাসলিমা বেগম বলেন, এতো অল্প জায়গায় পরিকল্পিতভাবে সবজি চাষ করা যায়, তা আগে জানা ছিল না। এখন তাদের দেখাদেখি পাশের গ্রামের মানুষও উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। উপকারভোগী মুক্তার হোসেন বলেন, বাজারে সবজির দাম বেশি হওয়ায় কিনে খেতে কষ্ট হতো। এখন নিজের জমিতে উৎপাদিত সবজি দিয়ে খরচ বাঁচছে, আবার অতিরিক্ত অংশ বিক্রি করে আয়ও হচ্ছে।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল আজিজ বলেন, আমাদের লক্ষ্য ছিল বাড়ির আঙিনাকে পুষ্টির ভান্ডারে পরিণত করা। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারীরা এখন স্বাবলম্বী হচ্ছেন। এই মডেল পুরো উপজেলায় ছড়িয়ে দিতে কাজ চলছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার বলেন, আমিনপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের এই উদ্যোগ জাতীয় পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
অর্থ-বাণিজ্য: অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল প্রায় ৩৯ লাখ