পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় চাঁদার দাবিতে এক ফল ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত সোমবার দুপুরে মির্জাগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী নির্মল দাস মারধরের জন্য এক বিএনপির নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন। এ ব্যাপারে আগেরদিন রাতে নির্মল দাস লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান মির্জাগঞ্জ থানার ওসি আবদুস ছালাম।
সংবাদ সম্মেলনে নির্মল দাস অভিযোগ করেন, উপজেলার সুবিদখালী বাজারে তার একটি ফলের দোকান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা বিএনপির (স্থগিত কমিটির) সাংগঠনিক সম্পাদক সুজন সিকদার ও সহযোগীরা তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছেন। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তার কলেজ পড়ুয়া ছেলে ঋত্বিক দাস মাদক সেবন ও বিক্রি করে এমন অভিযোগ তুলে তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করছেন সুজন সিকদার।
তিনি বলেন, ‘রোববার (গত) সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে দোকানে যাওয়ার পথে সুজন সিকদার ও তার সহযোগীরা পথরোধ করে পুনরায় চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে আমাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে আহত করে তারা।’
পরে স্বজনদের সহায়তায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন বলে জানান নির্মল দাস। তিনি বলেন, ‘এ ঘটনা কাউকে বললে প্রাণনাশের হুমকিও দেয়া হয়। আমি নিরাপত্তহীনতায় ভুগছি।’
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির (স্থগিত কমিটির) সাংগঠনিক সম্পাদক সুজন সিকদার বলেন, এলাকায় অনেক ছেলে মাদক সেবন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত। নির্মল দাসের ছেলে ঋত্বিক দাসের বিরুদ্ধে ইয়াবা সেবন ও বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এটা এলাকাবাসী জানেন।
তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর পটুয়াখালী থেকে অভিযান চালাতে আসছিলেন। তখন তারা এলাকায় সামাজিকভাবে সচেতনতা বাড়াতে অভিভাবকদের নিয়ে কাজ করতে বলছিলেন। এলাকার পরিবেশ ঠিক রাখতে নির্মল দাসকে আগে জানানো হয়েছিল।
সুজন সিকদার দাবি করেন, ‘রোববার (গত) রাতে এলাকার অভিভাবকদের কাছে বসে নির্মলকে আবারও সর্তক করা হয়। তখন তিনি তার ছেলের বিরুদ্ধে অযথা হয়রানি করার কথা বলে প্রতিবাদ করেন। এ সময় উপস্থিত লোকজনের সঙ্গে তার হাতাহাতি হয়েছে। তাকে মারধর করা হয়নি।’
এ বিষয়ে মির্জাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির (স্থগিত কমিটির) সহ-সভাপতি পিন্টু সিকদার বলেন, ‘আমি এলাকায় ছিলাম না। এসে শুনেছি নির্মলকে মারধর করা হয়েছে। বিস্তারিত আর কিছুই জানি না।’
মির্জাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির (স্থগিত কমিটির) সভাপতি সাহাবুদ্দিন নান্নু বলেন, তিনি এমন অভিযোগের কথা শুনেছেন। তবে অপরাধের শাস্তি দেয়ার অধিকার দলের কোনো নেতার নেই। এজন্য পুলিশসহ বাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন। আর নির্মল একজন বয়স্ক মানুষ, বাজারের পুরাতন ব্যবসায়ী। তাকে মারধর করতে পারেন না সুজন সিকদার।
ওসি আবদুস সালাম বলেন, ‘সুজন সিকদারসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ এনে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন নির্মল দাস। পরিদর্শক (তদন্ত) বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।’
শিক্ষা: জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফল দুপুরে
অপরাধ ও দুর্নীতি: স্ত্রীসহ র্যাবের সাবেক ডিজি হারুনের ১০ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ
জাতীয়: আরও ১২০২টি মামলা প্রত্যাহার