নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যদের তুমুল সংঘর্ষ হয়েছে। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এই সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ আহত হয়েছে অন্তত ২১ জন।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২টা থেকে প্রায় ২টা পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। আহতদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপি কর্মী আকবর, হেলাল, রিয়াদ, জাহের, হক সাহেব, লুবনা আক্তারসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২১জন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নোয়াখালী-৬ হাতিয়া আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের উপস্থিতিতেই ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপির কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ককটেল বিস্ফোরণ ও সংঘর্ষ ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে চানন্দী ইউনিয়নের প্রকল্প বাজারে আসেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ। এসময় তিনি এলাকার নেতাকর্মীদের সঙ্গে দেখা করেন। পরে প্রকল্পে মানুষের উদ্দেশ্য ও বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে বক্তব্য দেন।
বক্তব্য শেষে ফেরার পথে প্রকল্প বাজারে বিএনপি-আওয়ামী লীগের লোকজনের সঙ্গে হান্নান মাসুদের লোকজনের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। যা পরবর্তীতে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এসময় বিএনপির অফিস, দোকানপাট ও কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পরে নিজের নেতাকর্মীদের নিয়ে সড়কে বসে কিছুক্ষণ অবস্থান নেন মাসউদ।
সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ অভিযোগ করে বলেন, “আমি প্রকল্প বাজারে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে দেখে আসার পথে স্থানীয় বেলাল ডাকাতের নেতৃত্বে তার গাড়িবহরের পিছন থেকে হামলা করা হয়েছে। বেলাল ডাকাত আগে আওয়ামী লীগ ছিলো এখন বিএনপি করে।” এ সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।
তবে হাতিয়ার চানন্দী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. সারওয়ার দাবি করেন, প্রকল্পে মাসউদ উচ্ছৃংখল বক্তব্য দেন।এমন বক্তব্যের পর তার দলের নেতাকর্মীরা বাজারে উঠে প্রথমে বিএনপির অফিস ভাঙচুর করে। পরে তারা বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর শুরু করলে স্থানীয় লোকজন প্রতিরোধের চেষ্টা করে।
বিএনপি নেতা সারওয়ার বলেন, “ঘটনার সময় হান্নান মাসউদের লোকজন স্থানীয়দের এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করলে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী প্রতিরধের চেষ্টা করেন। এসময় হামলার শিকার হন হেলাল নামের এক বিএনপি কর্মী। পরে হান্নানের লোকজন দফায় দফায় হামলা চালিয়ে আমাদের নেতাকর্মীসহ অন্তত ১২ জন আহত করে। এখনও হান্নান নিজে বাজারের পাশে অবস্থান নিয়ে নিজে নেতৃত্ব দিয়ে তার অস্ত্রধারী বহিরাগত সন্ত্রাসীদের আরও উত্ত্যক্ত করে তুলছে।”
ঘটনার পরে পুলিশ প্রটোকল দিয়ে সংসদ সদস্য হান্নান মাউসদকে ঘটনাস্থল থেকে নিয়ে যাওয়া হয়।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।