image
পাথরঘাটা (বরগুনা) : বরগুনার পাথরঘাটা উপকূলসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু আতঙ্কে গভীর সাগরে মাছ ধরতে যেতে পারছেন না জেলেরা -সংবাদ

সাগরে জলদস্যু আতঙ্ক, নিরাপত্তাহীনতায় জেলেরা

প্রতিনিধি, পাথরঘাটা (বরগুনা)

বরগুনার পাথরঘাটা উপকূলসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে আবারও বেড়েছে জলদস্যুদের তৎপরতা। অপহরণ, লুটপাট ও মুক্তিপণের ঘটনায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন জেলেরা। নিরাপত্তাহীনতার কারণে গভীর সাগরে মাছ ধরতে যেতে পারছেন না অনেকেই। এতে জীবিকা সংকটে পড়েছে হাজারো জেলে পরিবার এবং ক্ষতির মুখে পড়ছে সামুদ্রিক মৎস্য খাত।

স্থানীয় জেলে ও ট্রলার মালিকদের অভিযোগ, কয়েক বছর আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে জলদস্যু কার্যক্রম অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে নজরদারি কমে যাওয়ায় আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বিভিন্ন জলদস্যু চক্র। গভীর সাগরে ট্রলার ঘিরে ফেলা, মারধর, জাল ও মাছ লুট এবং জেলেদের অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি- এসব ঘটনা বেড়েই চলেছে।

সম্প্রতি সুন্দরবনসংলগ্ন কটকা এলাকায় পাথরঘাটা উপজেলার পদ্মা গ্রামের আব্দুল সরদারসহ চার জেলেকে অপহরণ করে জলদস্যুরা। পরে পরিবারের সদস্যরা প্রায় চার লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে তাদের ছাড়িয়ে আনেন। অপহরণকৃত জেলেরা জানান, বন্দি অবস্থায় তাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়।

জলদস্যুদের কবল থেকে ফিরে আসা আব্দুল সরদার বলেন, গভীর রাতে একটি ট্রলারের শব্দ পেয়ে তারা নিজেদের ট্রলারের বাতি নিভিয়ে দেন। কিন্তু জলদস্যুরা তাদের শনাক্ত করে মারধর করে এবং ট্রলার দখলের চেষ্টা চালায়। জালে আটকে থাকায় ট্রলার নিতে না পেরে তাকে তুলে নিয়ে যায়। আমাকে পায়ে শিকল দিয়ে চার দিন আটকে রাখে এবং প্রতিদিন নির্যাতন করে, বলেন তিনি।

এদিকে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের পদ্মা স্লুইস এলাকায় নোঙর করা একটি ট্রলার থেকেও ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর পাহারাদারকে তুলে নিয়ে যায় জলদস্যুরা। একই সঙ্গে ট্রলারটিও ছিনতাই করা হয় বলে জানা গেছে। নিখোঁজ কিশোর মিরাজুল ট্রলার পাহারার দায়িত্বে ছিল।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, ধারদেনা করে সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে অপহরণের শিকার হচ্ছেন জেলেরা। মুক্তিপণ দিতে আবার নতুন করে ঋণ করতে হচ্ছে। এতে পরিবারগুলো চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়ছে। ‘এভাবে চলতে থাকলে সাগরে যাওয়া বন্ধ করে দিতে হবে’, বলেন এক জেলে পরিবারের সদস্য বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, একটির পর একটি জেলে অপহৃত হচ্ছে। অনেককে মুক্তিপণ দিয়ে ফেরত আনতে হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে মৎস্য খাত মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।

স্থানীয় জেলেদের দাবি, প্রশাসন আগে যেভাবে জলদস্যু দমনে অভিযান চালিয়েছিল, সেভাবে আবার কঠোর পদক্ষেপ নিলে তারা নির্বিঘ্নে সাগরে যেতে পারবেন। অন্যথায় উপকূলীয় এলাকার অর্থনীতি বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হাসিবুল হক বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনার লিখিত অভিযোগ বা নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, সাগরে প্রশাসনিক টহল সার্বক্ষণিক রয়েছে এবং প্রয়োজনে তা আরও জোরদার করা হবে। অপরদিকে জেলেদের একটাই দাবি- নিরাপদ ও জলদস্যুমুক্ত সাগর নিশ্চিত করা।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» জয়পুরহাটে হলুদে বাম্পার ফলনেও হাসি নেই চাষিদের

সম্প্রতি