কেশবপুরের সন্ন্যাসগাছা ভায়া সোলগাথিয়া সড়কের পাশ থেকে ড্রেজার দিয়ে আবাধে কৃষিজমির মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে রয়নাবাজ এলাকার ইটভাটা এসএসবি ব্রিকসে। ইণঃপূর্বে উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে মাটি কাটার দায়ে ওই ভাটা মালিককে অর্ধলাখ টাকা জরিমানা করলেও থেমে নেই মাটি কাটা। শুধু ওই ভাটাই নয়, উপজেলায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ১১ ইটভাটায় চলছে অবৈধভাবে মাটি কাটার উৎসব।
অধিকাংশ ইটভাটা আবাসিক এলাকাসহ জনবহুল রাস্তার পাশে কৃষিজমি দখল করে গড়ে উঠেছে। এসব ভাটার কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে কৃষিজমির টপসয়েল। গণ ২ বছর পরিবেশ অধিদপ্তর কোনো ভাটার ছাড়পত্র না দিলেও প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই চলছে এসব ইটভাটা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সন্ন্যাসগাছা ভায়া সোলগাথিয়া সড়কের রয়নাবাজ এলাকায় অবৈধ ইটভাটা এসএসবি ব্রিকস, একই এলাকায় বিউটি ব্রিকস, কেশবপুর-চিংড়া সড়কের শ্রীরামপুর বাজারের ১০০ গজের ভেতর রাস্তার গায়ে আরমান গাজীর মেসার্স গাজী ব্রিকস, কেশবপুর-ত্রিমোহিনী সড়কের দোরমুটিয়া বাজারের পাশে কৃষিজমিতে কেশবপুর ব্রিকস, সাতবাড়িয়া বাজারের পাশে রহমান ব্রিকস ও আলম ব্রিকস, বগা শাহা কারারিয়া ফাজিল মাদ্রাসার পাশে বিএসবি ব্রিকস, হরি নদীর অববাহিকায় প্রাণ ব্রিকস, আগরহাটি গ্রামে মেসার্স পথিক ব্রিকসসহ ১১টি ইটভাটা অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে। গণ ২ বছর ধরে এসব ভাটা পরিবেশ দপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে। সব ইটভাটায় কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে কৃষিজমির টপ সয়েল।
ইট প্রস্তুত ও ভাটা নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৩-এর ৮ (১)-তে বলা আছে কৃষিজমিতে কোনো ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না। শুধু তাই নয়, ওই আইনের ৩ (ক)-তে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সীমারেখার (ফসলি জমি) এক কিলোমিটারের মধ্যেও কোনো ইটভাটা করা যাবে না। এ আইনের কোনো তোয়াক্কা না করেই কেশবপুরে অবৈধভারেই গড়ে উঠেছে ইটভাটা। প্রশাসনের নজরদারির অভাবে এসব ইটভাটায় অবাধে কৃষিজমির মাটি কেটে স্তূপ করে রাখা হচ্ছে।
সরেজমিন রয়নাবাজ এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, সন্ন্যাসগাছা-সোলগাথিয়া সড়কের পাশ থেকে প্রকাশ্যে ডেজার দিয়ে কাটা হচ্ছে টপ সয়েল। এতে হুমকির মুখে পড়েছে সড়কটি। প্রতিদিন ৩-৪টি ট্রাক্টরযোগে মাটি বহন করে নেয়া হচ্ছে এসএসবি ব্রিকসে। সড়কে পড়ে থাকা মাটিতে যেনতেন বৃষ্টি হলেই ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিটি ভাটা স্থাপনকালে জনগণ বাধা প্রদান করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই স্থাপন করা হয় অবৈধ ইটভাটা।
প্রতিটি ভাটার পাশে কৃষিজমির টপ সয়েল কেটে বিকেল স্তূপ করে রাখা হয়েছে। ভাটার ট্রাক্টরে করে প্রতিনিয়ত কৃষিজমির টপ সয়েল বহনের কারণে নষ্ট হচ্ছে কৃষিজমি, গ্রামীণ রাস্তাঘাট। এতে কমছে তিন ফসলি জমি। ভাটার কালো ধোয়ার প্রভাবে দিন দিন কমে যাচ্ছে ফসলের উৎপাদন। ঘটছে পরিবেশের বিপর্যয়। প্রশাসনের নীরাবতায় ভাটা মালিকরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
অর্থ-বাণিজ্য: বাংলাদেশ থেকে মুরগি ও ডিম নেবে না সৌদি আরব
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: আপনার টিভি কি চোখের জন্য নিরাপদ