চট্টগ্রামের পটিয়া সদরের চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের মুন্সেফ বাজার এলাকায় নির্মাণাধীন একটি বহুতল ভবন হেলে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।
গত বুধবার দুপুরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি টিম ঘটনাস্থলে এসে ভবনটি পরিদর্শন করে সর্তক সংকেট রেড সিগন্যাল লাল কাপড়ে সাইন বোর্ড লাগিয়ে দেন। মুনস্ফেবাজার রাস্তার দক্ষিণ পাশে মনির বহুতল ভবন টাওয়ার ভবনের মালিক প্রবাসে রয়েছে। ভবনটি নির্মাণ করার সময় ইমরাত আইন ভঙ্গ করে নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভবন নির্মানের সময় পটিয়া পৌরসভার প্রকৌশলীর দেখাশুনার নিয়ম থাকলেও তারা কোন ধরণের কর্তপাত করেনি। পটিয়া পৌরসভা থেকে যেসব শর্তে অনুমোদন দিয়েছে বিল্ডিং কোড অনুযায়ী করা হয়নি বলে সংশ্লিষ্ঠ কর্মকর্তাদের অভিযোগ। দ্রুত সময়ে ভবনের অবৈধ অংশ ভেঙে ফেলা না হলে ভবনের মালিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। ভবনটি হেলে পড়ার পর ভবনের মালিকের পক্ষ থেকে একটি প্রভাবশালী চক্র ধামাচাপা দিতে তৎপর রয়েছে বলেও স্থানীয়রা জানান।
এ বিষয়ে পটিয়া ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী কর্মকর্তা অণীশ চাকমা জানান, নির্মাণাধীন ভবনটির কাঠামো বর্তমানে অণ্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভিত্তি ও কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে ভবনটি ধসে পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত প্রয়োজনীয় কারিগরি মূল্যায়ন ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দিন-রাত আতঙ্কের মধ্যে সময় কাটছে তাদের। আশপাশে বসতবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ব্যস্ত সড়ক থাকায় যেকোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা বড় ধরনের প্রাণহানির কারণ হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। এদিকে ভবনটির পাশের এমএস টাওয়ারের মালিক সাইফুল ইসলাম রুবেল বলেন, নির্মাণাধীন ভবনটি তার ভবনের ওপর হেলে পড়ায় ভাড়াটিয়ারা ইতোমধ্যে ভবন ছেড়ে দিয়েছেন। এতে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিষয়টি দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের নেয়ার দাবি করেন তিনি।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ ও প্রকৌশলগত সমাধানের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে পটিয়া পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান খন্দকার জানান, হেলে পড়া নির্মাণাধিন ভবনটি আমরা পরিদর্শন করেছি, এটা সম্ভবত পৌরসভা থেকে দুই এক বছর আগে অনুমোদন নেয়া হয়েছে অনুমোদনের যেসব নিয়ম কানুন এবং বিধি দেয়া হয়েছিল সেগুলো ভঙ্গ করা হয়েছে কি না বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে কোন ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেছে বিধি মোতাবেক ভবন মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে পটিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পটিয়া পৌর প্রশাসক ফারহানুর রহমান জানান, হেলে পড়া ভবনটি আমার পরিদর্শন করেছি, এতে ভবনটি ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে ভবনটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভবন মালিককে নোটিস প্রদান করা হয়েছে।