নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় তিস্তা নদী থেকে অবৈধ পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে একের পর এক যৌথ অভিযান, মোবাইল কোর্ট ও জব্দ কার্যক্রম পরিচালিত হলেও থামছে না প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য। সর্বশেষ গতকাল বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দিনব্যাপী অভিযানে পাথর উত্তোলনে ব্যবহৃত ৫টি বোমা মেশিন, ৬টি ইঞ্জিনচালিত শ্যালো মেশিন ও ১১টি নৌকা ধ্বংস করা হয়েছে।
উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের বার্নির ঘাট, তেলীর বাজার, তিস্তা বাজার, চরখড়িবাড়ি, বাইশপুকুর ও কালীগঞ্জ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নির্বিচারে পাথর উত্তোলন চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেলেই সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়; অভিযান শেষ হলেই আবার নদীর তলদেশে গভীর গর্ত করে শুরু হয় পাথর তোলা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরানুজ্জামান ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রওশন কবিরের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ পাথর জব্দ করা হয়। অভিযানে সহযোগিতা করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-এর রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি), ডিমলা থানা পুলিশ ও আনসার ভিডিপি সদস্যরা। প্রশাসনের দাবি, অবৈধ উত্তোলনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ পাথর উত্তোলনের ফলে তিস্তার ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। গত বর্ষায় ডিমলা উপজেলার ১০ ইউনিয়নের মধ্যে অন্তত ৬টিতে তীব্র নদীভাঙন দেখা দেয়। খালিশা চাপানি ইউনিয়নের ছোট খাতা সুপরিটরি গ্রামে শত শত একর আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে নতুন চ্যানেল সৃষ্টি হয়েছে। বহু পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
প্রতি বছর বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নদীভাঙন রোধে শত শত কোটি টাকা ব্যয় করলেও কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলছে না বলে অভিযোগ। অভিজ্ঞ মহলের মতে, তিস্তা থেকে অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধে কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ না থাকায় নদী রক্ষা প্রকল্পগুলোও ঝুঁকির মুখে পড়ছে। সংরক্ষিত এলাকায় উত্তোলিত পাথর স্তূপ করে রাখার সুযোগ দিয়ে একটি পক্ষ পরোক্ষভাবে এই অবৈধ বাণিজ্যকে সহায়তা করছে- এমন অভিযোগও উঠেছে।
রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সেলিম আল দীন অবৈধ বালু ও পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, ‘অবৈধ পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অভিযান অব্যাহত থাকবে, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন- অভিযানে যন্ত্র ধ্বংস হলেও কেন বন্ধ হচ্ছে না সিন্ডিকেটের কার্যক্রম? ধারাবাহিক নজরদারি ও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ছাড়া তিস্তা রক্ষা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে প্রতিবছর নদী রক্ষা ও সেচ প্রকল্পে সরকারের বিপুল বিনিয়োগ ভেস্তে যেতে পারে। তিস্তা এখন শুধু একটি নদী নয়- উত্তরাঞ্চলের জনপদের টিকে থাকার অবলম্বন।
অর্থ-বাণিজ্য: বিদেশি ঋণ পাওয়ার চেয়ে পরিশোধই বেশি
আন্তর্জাতিক: পাকিস্তান-আফগানিস্তান সংঘাতে কী বলছে ভারত