image
খুলনা : বটিয়াঘাটা উপজেলা মিলনায়তনে ‘গ্রামীণ বীজমেলা’

খুলনায় নারী কৃষকের গ্রামীণ বীজমেলা দেশীয় বিলুপ্ত বীজের প্রদর্শনী

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, খুলনা

কেউ এনেছিলেন বিলুপ্ত প্রায় দেশি ধান মরিচশাইল, রানীস্যালোট, হিজলি, দিঘা, মোরগশাইল, কালামাণিকের বীজ। আবার কেউ আলু, পটোল, ধনে সর্ষে, সিম, তিল, তৃষি, বিভিন্ন ধরনের ডাল, মৌরির দানা। ছিল মেটে আলু, আদা, হরতকি, লাল শাক, পালংশাক, টমেটো, কালোজিরাও বীজ।

বৃহস্পতিবার খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলা মিলনায়তনে ‘গ্রামীণ বীজমেলায়’ এভাবেই স্থানীয় ১৭টি গ্রামের অর্ধশতাধিক নারী কৃষক এভাবেই তাদের সংগৃহিত বীজ প্রদর্শন, বিনিময় ও বিক্রি করেন।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা লোকজ ও মৈত্রী কৃষক ফেডারেশনের যৌথভাবে এ মেলার আয়োজন করে। দিনব্যাপী শত শত কৃষিজীবী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মেলাটি হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।

কৃষিবিশেষজ্ঞরা বলছেন, সভ্যতার শুরুর দিকে কৃষির উন্মেষ ঘটে নারীর হাত ধরেই। তখন প্রয়োজনীয় বীজ তারা সংরক্ষণ করে পরে তা রোপণ করতেন। যুগ যুগ ধরে নারীরাই হয়েছেন কৃষির ধারক। নানা উদ্ভিদের বীজ সংরক্ষণের প্রাচীন সেই প্রথা এখনো টিকিয়ে রেখেছেন বটিয়াঘাটা উপজেলার নারীরা।

মেলায় আসা কৃষকরা জানান, উপজেলাটির চার ইউনিয়নের ১৭টি গ্রামের অন্তত ২০০টি পরিবার এসব নানা পদের বীজ সংরক্ষণ করছে। ওই এসব পরিবারের নারীদের কাছে ৮০ থেকে ২৫০ প্রজাতির দেশি জাতের বীজ সংরক্ষিত আছে।

কৃষকরা বলেন, আধুনিক উচ্চফলনশীল জাতের ভিড়ে দেশীয় আদি জাতগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। এই মেলার মাধ্যমে কৃষকরা একে অপরের সাথে বীজ বিনিময় করার সুযোগ পেয়েছেন, যা আগামী মৌসুমে চাষাবাদে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আর এই বীজ সংগ্রহের সাফল্য এ অঞ্চলের নারী কৃষকদের। তারা দীর্ঘদিন নিষ্ঠার সঙ্গে দেশি বীজ সংরক্ষণ করে জাত টিকিয়ে রাখছেন।

মেলায় প্রদর্শিত বীজের স্টলগুলো থেকে বীজের সংখ্যা, বীজের বৈচিত্র্যময়তা, বীজের মান এবং বীজ উপস্থাপন কৌশলের উপর ভিত্তি করে একটি নির্বাচনী প্যানেলের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী নারী কৃষকদের মধ্যে সুকদাড়া গ্রামেন করুণা মণ্ডলকে প্রথম, বিধবা নারী নমিতা সরকারকে দ্বিতীয় এবং হালিয়া শিউলী মণ্ডলকে তৃতীয় স্থান নির্বাচিত করে পুরস্কার প্রদানসহ মেলায় অংশগ্রহণকারী সব নারী কৃষকদের পুরস্কৃত করা হয়েছে।

লোককের নির্বাহী পরিচালক দেবপ্রসাদ সরকার জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও নারী কৃষকদের অভাবনীয় সাড়া পাওয়া গেছে।এই উদ্যোগ কৃষকদের বীজ সংরক্ষণের আগ্রহকে আরও বাড়িয়ে দেবে এবং দেশের কৃষি অর্থনীতিকে টেকসই করবে।

মেলায় অংশ নিয়ে বটিয়াঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার খন্দকার কামরুজ্জামান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের এই আমাদের দেশীয় জাতের বীজগুলোই সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ। প্রান্তিক নারীকৃষকরা যেভাবে বংশপরম্পরায় এই বীজগুলো টিকিয়ে রেখেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» স্বপ্নছোঁয়ার আগেই নিভে গেল প্রাণ প্রবাসে যাওয়ার এক দিন পরই মৃত্যু

সম্প্রতি