ক্ষতবিক্ষত করতোয়া
করতোয়া নদীর বুকে অবাধে চলছে চর কাটার মহোৎসব। দীর্ঘদিন ধরে মাটি দস্যুরা নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে চর কেটে মাটি বিক্রি করলেও স্থানীয় প্রশাসন রহস্যজনকভাবে নীরব রয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। মাঝে মধ্যে লোক দেখানো দু-একটি অভিযান পরিচালিত হলেও বন্ধ হচ্ছে না এই অবৈধ কারবার। এতে নদীভাঙনের ঝুঁকির পাশাপাশি গ্রামীণ রাস্তাঘাট ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের চক রহিমাপুর, সাহেবগঞ্জ মেরী ও ফকিরগঞ্জ নরঙ্গেবাদ; কাটাবাড়ী ইউনিয়নের পলুপাড়া ও ফুলহার; রাখালবুরুজ ইউনিয়নের ধর্মপুর বড়দহ ব্রিজ এলাকা এবং মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্টে প্রকাশ্যে দিবালোকে চর থেকে মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে।
ভারী ড্রাম ট্রাক ও ট্রাক্টরের মাধ্যমে এসব মাটি পরিবহনের ফলে গ্রামীণ সড়কগুলো দেবে গিয়ে বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ধুলোবালিতে জনপদ আচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে, যা শ্বাসকষ্টসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। খোলা পরিবহনে মাটি নেওয়ার কারণে সৃষ্টি হওয়া ধুলো ও কাঁদায় পরিবেশেরও মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। ভারী যান চলাচলে গ্রামীণ রাস্তাগুলো দ্রুত ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
পরিবেশ ও জনপথ রক্ষায় এই অবৈধ মাটি কাটা ও পরিবহন অবিলম্বে বন্ধ করা জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল। প্রশাসনের এই রহস্যজনক ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’ অবস্থান গোবিন্দগঞ্জের পরিবেশ ও অবকাঠামোকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ মানুষের দাবি, লোক দেখানো অভিযান নয়—দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।