আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সাংবিধানিকভাবে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ আগামী সংসদের প্রথম অধিবেশনেই বিল আকারে পেশ করা হবে।
শনিবার ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার সংসদ সদস্য ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে দেশে নির্বাচন হয়েছে এবং আমরা একটি সরকার পেয়েছি। শহীদদের আত্মা কষ্ট পায় এমন কোনো কর্মকাণ্ড এই সরকার মেনে নেবে না। জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালে যারাই অপরাধ করেছে, তাদের প্রত্যেকের বিচার নিশ্চিত করা হবে।
ফ্যাসিস্ট ও গণহত্যার সঙ্গে জড়িতরা আইনের কোনো ফাঁক-ফোকর দিয়ে রেহাই পাবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী ধর্ষণের মতো অপরাধে জড়িত ও তাদের আশ্রয়দাতাদের কঠোর পরিণতির কথা মনে করিয়ে দেন। তিনি বলেন, অপরাধী যেই হোক বা তার রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। বিশেষ করে নরসিংদীর চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ মামলায় জড়িত বা তাদের আশ্রয়দাতাদের শেকড় উপড়ে ফেলা হবে। এ সময় তিনি ঝিনাইদহের শিশু তাবাসসুম হত্যা মামলাসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মামলা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিচারের আশ্বাস দেন।
দুর্নীতি প্রসঙ্গে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এই সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” ঘোষণা করেছে। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত হলে কেবল চাকরি হারানোই নয়, বিভাগীয় মামলা এবং দুদকের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণের টাকার এক পয়সা কমিশন বা দুর্নীতি করলেও কড়াই-গণ্ডায় হিসাব বুঝে নেওয়া হবে।
উন্নয়ন কাজের গুণমান নিয়ে কোনো আপোস করা হবে না উল্লেখ করে আসাদুজ্জামান বলেন, কোনো ঠিকাদার যদি সড়ক বা অবকাঠামো নির্মাণে অনিয়ম ও কমিশন বাণিজ্য করে, তবে তাদের লাইসেন্স চিরতরে বাতিল করা হবে। দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্তরা যেন ভবিষ্যতে আর কোনো সরকারি কাজ না পায়, সেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ছাড়া ঝিনাইদহে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অপরাধ ও দুর্নীতি: বিচ্ছিন্ন দুই হাত উদ্ধার, আঙুলের ছাপে পরিচয় শনাক্ত