দোলপূর্ণিমা তিথিতে ফকির লালন শাহর স্মরণে তিন দিনব্যাপী উৎসবের আয়োজন থাকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেউড়িয়ার আখড়াবাড়িতে। সাধু-গুরু ও লালনভক্তদের পদচারণায় জমজমাট হয়ে ওঠে প্রাঙ্গণ। তবে পবিত্র রমজান মাসের কারণে এবার সেই আয়োজন একদিনের মধ্যে সীমিত রাখা হয়েছে।
সোমবার (১ মার্চ) দুপুর থেকে শুরু হয়ে মঙ্গলবার দুপুরে শেষ হবে এই আয়োজন। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এবার কেবল আলোচনা অনুষ্ঠান এবং বাউলদের আপ্যায়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে স্মরণোৎসব। থাকছে না সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মেলা।
আখড়াবাড়ির ভারপ্রাপ্ত খাদেম মশিউর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রীতি অনুযায়ী সাধুসঙ্গ অব্যাহত থাকবে। সোমবার সন্ধ্যায় গুরুকার্যের মধ্য দিয়ে শুরু হবে এই আয়োজন। এরপর রাখাল সেবা ও মধ্যরাতে অধিবাস অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার ভোররাতে বাল্যসেবা এবং দুপুরে পূর্ণসেবার মধ্য দিয়ে সাধুসঙ্গ শেষ হবে।
পবিত্র মাহে রমজানের কারণে এবার অনুষ্ঠান সীমিত আকারে হচ্ছে। এতে লোকসমাগমও অনেক কম হবে বলে ধারণা করছেন আয়োজকরা।
এদিকে, উৎসব উপলক্ষে কয়েক দিন ধরেই আখড়াবাড়িতে আসতে শুরু করেছেন লালনভক্ত বাউল ও ফকিরের দল। রোববার বেলা ১১টায় আখড়াবাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তারা দলেদলে ভাগ হয়ে আসন পেতে বসেছেন। চারিদিকে মুখরিত হচ্ছে লালনের গানে।
লালনভক্তরা জানান, দোল উৎসব উপলক্ষে সারাবছর এই দিনের অপেক্ষায় থাকেন তারা। দেশ-বিদেশের বাউল ও সাধুদের সঙ্গে এখানে এসে ভাব বিনিময় হয়। চুয়াডাঙ্গা থেকে আসা সামির মাধু নামের এক বাউল বলেন, “এখানে এলে আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে জ্ঞানচর্চা হয়, তাত্ত্বিক উন্নতি হয়, মানসিক উন্নতি হয়। সাঁইজির প্রেমের টানেই চলে আসি।”
তারা বলেন, জাতি-বর্ণ-ধর্ম নির্বিশেষে মানবপ্রেমের বাণী দেওয়া ফকির লালন সাঁইজির মায়ার টানেই তারা এখানে ছুটে আসেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার জানান, উৎসবের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে মাজারসংলগ্ন এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পর্যাপ্ত পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। আগত বাউল, সাধক, ভক্ত ও দর্শনার্থীদের সহযোগিতার জন্য গ্রাম পুলিশ, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।
সারাদেশ: সাটুরিয়ায় ৪০ খামারির মাঝে ভেড়া বিতরণ