image
কালিহাতী (টাঙ্গাইল) : নির্মাণাধীন সেতু -সংবাদ

কালিহাতীতে সেতু নির্মাণকাজ বন্ধ আটকে আছে এলজিডির রাস্তা

প্রতিনিধি, কালিহাতী (টাঙ্গাইল)

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার কোকডহরা ইউনিয়নের সাভার কবরস্থান খালের ওপর সেতুর নির্মাণ কাজ থেমে আছে। ফলে সাভার গ্রামের মানুষ পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, পিআইও এবং ঠিকাদারের দ্বন্দ্বের কারণে সেতুর নির্মাণ কাজ বন্ধে আটকে আছে এলজিডির ১ কিলোমিটার রাস্তা।

কালিহাতী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রথমে ২০১৯-২০ অর্থবছরে সেতুর কাজ শুরু হয়, নিচের বক্সের কাজ শুরু করে ঠিকাদার উধাও হয়ে যায়। পরে টেন্ডার বাতিল করে আবার পুনরায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সাভার খালের উপর সেতু নির্মাণে ৩৯ লাখ টাকা অর্থ বরাদ্দ দেয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। ১৫ মিটার এ সেতুটি পিআইও’র তত্ত্বাবধানে দরপত্র আহ্বান করা হয়। পরে সেতু নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পায় বুলবুল এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু গত ২৯ এপ্রিল ২০২৪ এবং কাজ শেষ ৩১ মে ২০২৫ তারিখের মধ্যে সেতু নির্মাণ কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু সেতু নির্মাণের ৩০% কাজ হওয়ার পর বন্ধ রয়েছে। এতে করে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে

এলজিডি কর্তৃক ১ কিলোমিটার রাস্তার অর্ধেকটা মেকাডম কমপ্লিট করা হলেও বাকি ৪৫০ মিটার রাস্তার কাজ আটকে আছে, পিআইওর সেতু নির্মাণ কাজের জন্য। এলজিডির ১ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ চুক্তিমূল্য ১ কোটি ৯ লাখ ৫৮ হাজার টাকা, কাজ শুরু গত ১৭ এপ্রিল ২০২৫ কাজ শেষ ৩০ জুন ২০২৫ইং সময় শেষ হলেও কাজ অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পায় মেসার্স কুন্ডু ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

কোকডহরা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইয়াকুব আলী বলেন, আমাদের অনেক দিনের আশা এই ব্রিজটির কিন্তু গত ২০১৯ সালে ব্রিজের কাজ শুরু হলেও কোনো কারণ ছাড়াই কাজটি বাতিল করে আবার নতুন করে ২০২৪ সালে কাজ শুরু হলেও কিছু কাজ করে আবার বন্ধ। কিন্তু সেতু না থাকায় যোগাযোগ সুবিধার্থে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে এলাকার লোকজন। প্রতিদিন সাঁকোর ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীসহ হাজারো নারী-পুরুষ ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগ করে। বর্ষা মৌসুমে নৌকা বা বিকল্প পথ ছিল একমাত্র উপায়। আমাদের এলাকার ৯০% কৃষি জমি খালের দক্ষিণ পাশে ব্রিজটা সম্পন্ন হলে এলাকার মানুষের দুঃখ কষ্ট কমে যাবে। দক্ষিণ পাশে একটি কবরস্থানও রয়েছে একজন মানুষ মারা গেলে বর্ষা মৌসুমে নৌকা বা লঞ্চ ছাড়া বিকল্প কোনো রাস্তা নেই। ব্রিজটা নির্মাণ হলে খালের দক্ষিণ পাশে কোকডহরা, বানিয়ারা, কাগুজিপাড়া, কোনাবাড়ী ও হাসড়া এলাকার মানুষ অতি সহজেই উপজেলার দিকে যাতায়াত সুবিধা হবে। তাই উপজেলা প্রশাসনের নিকট আকুল আবেদন ব্রিজটির কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ হলে এলাকার মানুষের চলাচলের রাস্তা উন্মুক্ত হয়ে যাবে। বুলবুল এন্টারপ্রাইজের ঠিকাদার প্রোপাইটর আরিফুল ইসলামের মোবাইল ফোন সেতুর কাজের বিষয়ে জানতে একাধিক বার চেষ্টা করা হলেও ফোন রিসিভ করেনি।

কোকডহরা ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আব্দুল বাছতে বলেন, সেতুর কাজ দুই বার শুরু হলেও এখন পর্যন্ত শেষ করতে পারেনি। এখানে পিআইও বা ঠিকাদারের সঙ্গে কি ঝামেলা সেটা আমরা জানতে চাই না, সেতু নির্মাণ কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ হলে এলাকার মানুষের উপকৃত হবে। এলজিডির বাকি রাস্তা ব্রিজের কাজের কারণে আটকে আছে।

উপজেলা প্রকৌশলী কর্মকর্তা আরিফ হোসেন এ বিষয়ে বলেন, হাসড়া বাজার থেকে বলধি বাজার এলজিডি কর্তৃক এক কিলোমিটার রাস্তার অর্ধেকটা মেকাডম কমপ্লিট করা হয়েছে। বাকি ৪৫০ মিটার কাজ সাভার কবরস্থান খালের ওপর পি আই ও কর্তৃক নির্মিত একটি ব্রিজের কাজ শেষ না হলে আমাদের বাকি কাজ সম্পন্ন করতে পারব না। তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে পিআইও কে বলেছি ব্রিজের

কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ না করতে পারলে আমাদের বাকি কাজের মালামাল খালের ওপর দিয়ে ক্যারি করা সম্ভব নয়। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, আমি কালিহাতীতে জয়েন করার পর দেখলাম ৭টি বক্স কালভার্ট অসমাপ্ত রয়েছে আছে। এর মধ্যে সাভার কবরস্থান খালের ওপর একটি কালভার্ট এর কাজ বন্ধ থাকাতে বুলবুল এন্টারপ্রাইজের ঠিকাদারকে কাজ ধরার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের এবং আমাদের অধিদপ্তর থেকে বার বার চিঠিও দিয়েছি কাজ শেষ করতে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি