image
বদলগাছী (নওগাঁ) : আশ্রয়ণ প্রকল্পের বসিন্দারা -সংবাদ

৮ বছরেও বিদ্যুৎ সুবিধা পায়নি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩০টি পরিবার

প্রতিনিধি, বদলগাছী (নওগাঁ)

৮ বছরেও নালুকাবাড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বসবাসরত অসহায় ৩০টি পরিবারের ভাগ্যে মিলেনি বিদ্যুতের আলো। পায়নি ঘরের কোনো কাগজপত্র বা দলিল। এই আশ্রয়ণ প্রকল্পটি আবস্থিত নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নে।

ছোট যমুনা নদীর চড়ের ওপর নির্মিত এই আশ্রয়ণ প্রকল্পটিতে সন্ধ্যা হলেই নেমে আসে ঘুটঘুটে অন্ধকার। চতুর্দিকে শুনশান, ঝিঝি পোকার ডাক, ভয় আর আতঙ্কে তাদের কাটে রাত। বিপর্যস্ত জীবন তাদের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৮ সালে নালুকাবাড়ী আশ্রয়ণ প্রকল্পে ৪৮টি ঘর নির্মাণ করা হয়। সে সময় প্রাথমিক একটি তালিকা তৈরি করে এই আশ্রয়ণ প্রকল্পে লোক জনকে বসবাস করতে দেন তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)। বসবাসকারী ব্যক্তিদের ঘরগুলোর কাগজপত্র বুঝে দেয়ার আগেই তৎকালীন ইউএনও এই উপজেলা থেকে বদলি হয়ে চলে যায়।

দুর্বিষহ জীবন যাপনের খবর পেয়ে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সেখানে বসবাসরত লোকজন জানান, তাদের দুঃখ দুর্দশার কথা।

বসবাসকারী হাফিজুল জানান ৮ বছর আগে তাদের থাকার জায়গা দিয়েছে এখানে। ছেলে-মেয়ে নিয়ে থাকি। সন্ধ্যার পর নেমে আসে ঘুটঘুটে অন্ধকার। রাতে ভয় লাগে ঘুমে ধরেনা। বাচ্চু হোসেন জানায়, দেড় বছর আগে আলেফ উদ্দিনের ঘরে বাতির আগুন থেকে ঘরে আগুন লাগে। টিউবওয়েলের পানি তুলে আগুন নিভাতে পারিনি। ৪টি গরুসহ আলেফ উদ্দিন পুড়ে মারা যায়। যদি বিদ্যুৎ থাকতো তাহলে এই ক্ষতি হতো না।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের সব নারী-পুরুষ অভিযোগ করে বলেন, আশ্রয়ণের পশ্চিম পাশে ছোট যমুনা নদীর চড়ে কিছু মালিকানা জমি আছে। আর সেই জমির মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করছে। আর এতে করে আশ্রয়ণ প্রকল্পটি ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

এলাকাবাসী বলছেন, মাটি কাটার কারণে কোথাও উঁচু কোথাও নিচু হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে নদী ভরে গেলে রাতে প্রভাবিত হলে এই আশ্রয়ণ প্রকল্পটি বিলিন হয়ে যাবে। তারা আরও অভিযোগ করে বলেন, এই মাটি কাটা বন্ধের জন্য বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনকে বারবার অবহিৃত করা হলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা করা হয় নি। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, এবার শীতের শুরুতে ঐ খানে কম্বল বিতরণ করতে গিয়ে সমস্যাটা জেনেছি। আমি ইউএনও স্যার এক সঙ্গেই ছিলাম ।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনি বলেন, অনেক আগে ঘরগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। কেন তখন তাদেরকে দলিল বুঝিয়ে দেয়া হয়নি তা আমার জানা নেই। কাগজ না থাকলে তো বিদ্যুৎ বিভাগ সংযোগ দিবে না। এছাড়া যারা মাটি কাঁটছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। সব পরিবারের মাঝে দলিল প্রদানসহ বিদ্যুৎ সংযোগ যেন তারাতারি পায় এ বিষয়ে প্রদক্ষেপ নেয়া হবে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি