image

সৈয়দপুরে আগুনের তাণ্ডব

ধ্বংসস্তূপে পরিণত ১০ প্রতিষ্ঠান, কোটি টাকার স্বপ্ন ছাই

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের ব্যস্ততম শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়কে ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড পুরো জনপদকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।

সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে একটি বহুতল ভবনের ওয়েল্ডিং কাজের অবহেলা থেকে সূত্রপাত হওয়া এই আগুনের লেলিহান শিখা মুহূর্তের মধ্যে গ্রাস করে নেয় দুটি বেসরকারি ব্যাংকসহ অন্তত ১০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, "আলতাফ টাওয়ার" নামক ওই ভবনে ঝালাইয়ের কাজ করার সময় আগুনের ফুলকি পাশের একটি লেপ তোষকের দোকানে পড়লে আগুনের সূত্রপাত হয়। বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও ভবন মালিকের লোকজন কাজ বন্ধ না করায় এই মর্মান্তিক পরিণতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।

​সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শুরু হওয়া সেই আগুনের ভয়াবহতা এতটাই ছিল যে, তা দ্রুত পাশের ছয়তলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত "ঢাকা ব্যাংক" এবং তৃতীয় তলায় "ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক" এর শাখায় ছড়িয়ে পড়ে। ব্যাংকের ভল্ট রক্ষা পেলেও ভেতরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, কম্পিউটার এবং আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

আগুনের সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের নীলফামারী, সৈয়দপুর ও রংপুরের ৮টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও আশেপাশে পানির পর্যাপ্ত উৎস না থাকায় কাজ শুরু করতে বেশ বেগ পেতে হয়। প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টার পর ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

​এই ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক পরিমাণ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহা ফাতিহা তাকলিমা দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানিয়েছেন, ভবনগুলোতে অপরিকল্পিত নির্মাণ এবং অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থার অভাবই এই বড় ধরনের ক্ষতির প্রধান কারণ।

ফায়ার সার্ভিসের রংপুর ডিভিশনের উপ-পরিচালক আনোয়ারুল হকও পানির সংকটের কথা উল্লেখ করে ভবন মালিকদের সচেতনতার অভাবকে দায়ী করেছেন।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে পোড়া স্তূপের মাঝে দাঁড়িয়ে নিঃস্ব ব্যবসায়ীরা যখন নিজেদের শেষ সম্বলটুকু খুঁজছেন, তখন পুরো সৈয়দপুর জুড়েই বইছে শোক আর ক্ষোভের ছায়া।

প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ ও দায়ীদের শনাক্ত করতে ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি