ভাঙল সাধুর হাট

শেষ হলো একদিনের লালন স্মরণোৎসব

জেলা বার্তা পরিবেশক, কুষ্টিয়া

কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় ফকির লালন শাহ–এর আখড়াবাড়িতে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বাল্যসেবা ও পূর্ণসেবার মধ্য দিয়ে শেষ হলো একদিনের লালন স্মরণোৎসব।

দোলপূর্ণিমা তিথিতে প্রতিবছর যেখানে তিন দিনের উৎসব অনুষ্ঠিত হয়, এবার রমজান উপলক্ষে সেই আয়োজন সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। ছিল না মেলা বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান; শুধুমাত্র বাল্যসেবা, পূর্ণসেবা ও সাধুসঙ্গকে ঘিরেই অনুষ্ঠিত হয়েছে বাউল-ফকিরদের আধ্যাত্মিক আসর।

সোমবার (২ মার্চ) সন্ধ্যায় অষ্টপ্রহরব্যাপী গুরুকার্যের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই সাধুসঙ্গ মঙ্গলবার বাল্যসেবা ও পূর্ণসেবার মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

এর আগে সোমবার লালন স্মরণোৎসব উপলক্ষে লালন একাডেমি মিলনায়তনে এক আলোচনা সভার উদ্বোধন করেন লেখক ও চিন্তক ফরহাদ মজাহার। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, লালন একাডেমিতে গবেষণা ও চর্চার ঘাটতির কারণে লালনের বাণী নিয়ে এ অঞ্চলে নানা অপপ্রচার হচ্ছে, যা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে। তাঁর ভাষায়, যে সংস্কৃতি মানুষকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে না, সে সংস্কৃতির বিপরীতে সত্যিকার আধ্যাত্মিক সংস্কৃতি বিকশিত করতে আলেম, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে বসে আলোচনা করতে তিনি প্রস্তুত। কারণ, ফকির লালনের বিরোধিতা করা মানে মানুষকে আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়ার পথ থেকে ভুলপথে ঠেলে দেওয়া।

আলোচনা সভায় মুখ্য আলোচক ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়–এর অধ্যাপক ড. মো. রাশিদুজ্জামান এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও লালন একাডেমির সভাপতি মো. ইকবাল হোসেন। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় লালন একাডেমি এ স্মরণোৎসবের আয়োজন করে।

বিকেলে আখড়াবাড়ি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কয়েক দিন আগে থেকেই লালনভক্ত বাউল-ফকিররা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে আসরে বসে লালনের গান ও সাধুসঙ্গে মগ্ন ছিলেন। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার উপস্থিতি ছিল কম; ছিল না আগের মতো জৌলুশ।

https://sangbad.net.bd/images/2026/March/03Mar26/news/kushtia%20lalon%20pic%203-2-26.jpg

আখড়াবাড়িতে উপস্থিত বাউলরা বলেন, লালন শাহ জাতপাত মানতেন না; ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখার শিক্ষা দিয়েছেন। তারা আরও জানান, দোলপূর্ণিমার তিথিতে লালন সাঁই নিজে সঙ্গীদের নিয়ে দোলউৎসব করতেন। অষ্টপ্রহর গুরুকার্য ও সাধুসঙ্গ শেষে ভক্তরা নিজ নিজ গৃহে ফিরে গেছেন।

জেলা প্রশাসক মো. ইকবাল হোসেন জানান, মাহে রমজানের কারণে উৎসব সংক্ষিপ্ত করা হলেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে লালন স্মরণোৎসব সম্পন্ন হয়েছে।

সম্প্রতি