image

সিসিকে অচলাবস্থা, ছয় অগ্রাধিকার সামনে

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, সিলেট

নির্বাচিত কোনো জনপ্রতিনিধি না থাকায় গত দেড় বছরে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) এলাকায় নাগরিক ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির অনুপস্থিতির পাশাপাশি প্রশাসনিক কার্যক্রমে জটিলতা, অবকাঠামোগত উন্নয়নে স্থবিরতা এবং মৌলিক সেবায় ঘাটতির কারণে নগরবাসীর দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়েছে। তবে সিসিকের নতুন প্রশাসক এসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।

নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর অনেকাংশ দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার হয়নি। খানাখন্দে ভরা সড়কে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অল্প বৃষ্টি হলেই বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। ড্রেনেজ ব্যবস্থার কার্যকর সংস্কার বা সম্প্রসারণে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে বলে মনে করছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা।

নগরীর ফুটপাত দখলমুক্ত করতে একাধিকবার অভিযান চালানো হলেও হকার উচ্ছেদ পুরোপুরি সফল হয়নি। হকারদের জন্য আলাদা শেড নির্মাণ করা হলেও তা কার্যকর হয়নি। কিছুদিন শৃঙ্খলা থাকলেও পরে আবার ফুটপাত দখল হয়ে যায়, ফলে পথচারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। অন্যদিকে যানজটও তীব্র আকার ধারণ করেছে। নগরীর প্রধান সড়কগুলোতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দীর্ঘ যানজট এখন নিত্যদিনের চিত্র।

নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলর না থাকায় নাগরিক সনদ, উত্তরাধিকার সনদসহ বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্র পেতে নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে একাধিকবার ঘুরেও অনেকেই নির্ধারিত সময়ে সেবা পাচ্ছেন না। নগরীর দাঁড়িয়াপাড়ার বাসিন্দা লেখক-কলামিস্ট জিবলু রহমান জানান, পাঁচ দিন ঘোরার পর তিনি তাঁর লন্ডনপ্রবাসী মামির নাগরিক সনদ সংগ্রহ করতে সক্ষম হন।

নগরীতে সুপেয় পানির মারাত্মক সংকট রয়েছে। সিসিক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন পানির চাহিদা প্রায় ১০ কোটি লিটার, অথচ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে মাত্র ৫ কোটি ৮০ লাখ লিটার। ফলে অনেক এলাকায় নিয়মিত পানি পাচ্ছেন না বাসিন্দারা। গভীর নলকূপ ও বিকল্প উৎসের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে।

নগরীর জালালাবাদ এলাকার বাসিন্দা খালেদ আহমদ জানান, পানির অভাবে তিনি আট মাস ধরে পাশের এক আত্মীয়ের বাসায় অবস্থান করছেন। তিনি বলেন, “নগরীর পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। কর্মকর্তাদের গায়ে যেন জং ধরেছে। আট মাসেও একটি পানির পাম্প মেরামত হয়নি।” নতুন প্রশাসক এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সিসিকের কনজারভেন্সি বিভাগ নগরী পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা চালালেও মশার উপদ্রব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। নিয়মিত ফগিং কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি। ফলে বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগের আশঙ্কা বাড়ছে।

নগরীর ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এনামুল হক জুবের দ্রুত ড্রেনেজ সংস্কার, রাস্তা মেরামত, সুপেয় পানির সরবরাহ বৃদ্ধি এবং সেবাপ্রদান প্রক্রিয়া সহজীকরণে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির অনুপস্থিতিতে প্রশাসনিক সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

নবনিযুক্ত প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, রবিবার থেকে নগরীতে মশক নিধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তিনি ছয়টি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছেন বলে জানান। অগ্রাধিকারগুলো হলো—পরিচ্ছন্নতা ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জোরদার করা, জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, মশক নিধন জোরদার, যানজট নিয়ন্ত্রণ ও ফুটপাত দখলমুক্ত করা, নাগরিক সেবায় হয়রানি হ্রাস এবং সিটি করপোরেশনের সব কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নাগরিক ভোগান্তি অনেকাংশে কমে আসবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সম্প্রতি