image

সনাতন সেচে সবুজ উত্তরাঞ্চল

প্রতিনিধি, গাইবান্ধা

জ্বালানি ছাড়াই মিটছে ৩০ হাজার হেক্টর জমির পানির চাহিদা

উত্তরাঞ্চলের কৃষকরা ফসল উৎপাদনে আধুনিক যান্ত্রিক পাম্পের পাশাপাশি ভরসা রাখছেন সনাতন সেচ পদ্ধতির ওপর। আশপাশের বিল, ডোবা, খাল ও পুকুরের পানি ব্যবহার করে তারা ফসলের জমি সতেজ রাখছেন। এতে একদিকে যেমন সেচ ব্যয় কমছে, অন্যদিকে সাশ্রয় হচ্ছে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল ও বিদ্যুৎ।

সবুজ ধানক্ষেতের বুক চিরে বয়ে যাওয়া নালা কিংবা নিচু জলাশয় থেকে দড়ি বাঁধা টিন বা চামড়ার তৈরি ‘সেউতি’ দিয়ে ইরি জমিতে পানি সেচ দিচ্ছেন চাষিরা। দুই প্রান্তে দুজন কৃষক দাঁড়িয়ে ছন্দবদ্ধভাবে নিচু স্থান থেকে উঁচু জমিতে পানি তুলে দিচ্ছেন—উত্তরাঞ্চলের অনেক গ্রামে এখনো দেখা যায় এমন চিরায়ত দৃশ্য।

রংপুর বিভাগ–এর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, উত্তরাঞ্চলের কৃষকরা নিচু জমি, খাল-বিল, ডোবা ও পুকুর থেকে পানি সংগ্রহ করে অন্তত ৩০ হাজার হেক্টর জমির সেচের চাহিদা পূরণ করছেন।

শ্যালো মেশিন বা অন্যান্য যান্ত্রিক সেচযন্ত্র ব্যবহার না করায় কৃষকদের ডিজেল বা বিদ্যুতের বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে না। ফলে উৎপাদন ব্যয় কমে গিয়ে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এ অঞ্চলের প্রায় ১০ শতাংশ জমিতে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে বা সনাতন পদ্ধতিতে সেচ দেওয়া হচ্ছে। শ্যালো মেশিন বা যান্ত্রিক সেচযন্ত্রের ব্যবহার না থাকায় কৃষকদের ডিজেল বা বিদ্যুতের বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে না। ফলে উৎপাদন খরচ কমে যাওয়ায় আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন তারা।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী এই সেচ পদ্ধতি কৃষকদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক। পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির স্তর যখন আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাচ্ছে, তখন ভূপৃষ্ঠের প্রাকৃতিক জলাশয়ের পানির এমন ব্যবহার পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় দারুণ ভূমিকা রাখছে।

সম্প্রতি