image

স্বামীর সম্পত্তি থেকে সৎ মা ও দুই সন্তানকে বঞ্চনার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

প্রতিনিধি, সাপাহার (নওগাঁ)

নওগাঁর সাপাহার উপজেলায় মৃত স্বামীর রেখে যাওয়া স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ তুলে ন্যায্য পাওনা আদায়ের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক ভুক্তভোগী নারী।

বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে সাপাহার প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলার কৈবর্ত্তগ্রামের মৃত এরশাদ আলীর দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. উমেশা খাতুন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, তার স্বামী এরশাদ আলী গত বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি প্রথম পক্ষের ছয় সন্তান এবং দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী উমেশা খাতুনের দুই নাবালক সন্তান রেখে যান। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই প্রথম পক্ষের বড় ছেলে ও মারকাজ সাবাহ আল আহম্মদ আল ইসলামী মাদ্রাসার পরিচালক ড. কাওসার এরশাদ মুহাম্মদ মাদানীসহ অন্য ভাই-বোনরা সৎ মা উমেশা খাতুন ও তার এতিম দুই সন্তানকে পৈতৃক সম্পত্তির ন্যায্য অংশ বুঝিয়ে দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

উমেশা খাতুন জানান, বিবাদীগণ প্রভাব খাটিয়ে স্বামীর রেখে যাওয়া আমবাগান, আবাদি জমি ও পুকুরের আয়ের কোনো অংশ তাদের দিচ্ছেন না। এমনকি সম্পত্তির প্রয়োজনীয় দলিলপত্রও কৌশলে গোপন করে রাখা হয়েছে। এছাড়া মৃত স্বামীর রেখে যাওয়া দুটি ট্রাক্টরের মধ্যে একটি বিক্রি করে তার সম্পূর্ণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একাধিকবার সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেছেন, তবুও বিবাদীপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় কোনো সিদ্ধান্ত মানছেন না। উল্টো তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এমনকি তাকে স্বামীর ভিটা থেকে কৌশলে বের করে গ্রামের নিচে বিদেশি অনুদানে নির্মিত একটি ঘরে বসবাস করতে বাধ্য করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ওই ঘরটি বিবাদীপক্ষ নিজেদের খরচে করে দেওয়ার কথা বললেও পরে জানা যায় সেটি আসলে একটি বিদেশি সংস্থার গৃহহীনদের জন্য দেওয়া অনুদানের ঘর। বর্তমানে তিনি মৃত স্বামীর সামান্য পেনশনের টাকায় দুই সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উমেশা খাতুনের নাবালক দুই সন্তান শফিকুল এরশাদ ও তাহেরা এরশাদ। ভুক্তভোগী পরিবারটি তাদের ন্যায্য পাওনা ও সম্পত্তির দলিলাদি উদ্ধারে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে ড. কাওসার এরশাদ মুহাম্মদ মাদানী বলেন, “আমি বেশিরভাগ সময় দেশের বাইরে থাকি। এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানি না। সংসার কীভাবে চলছে, তা উনি ভালো বলতে পারবেন।”

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি

Sangbad Image

অপরাধ ও দুর্নীতি: ৬ জেলার পুলিশ সুপার বদলি