image

রমজানে কলার চাহিদা ও দাম বেড়েছে

জমজমাট মধুপুরের জলছত্র হাট

প্রতিনিধি, মধুপুর (টাঙ্গাইল)

রমজান মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কলার চাহিদা বেড়ে গেছে। টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার জলছত্র হাটও সেই চাহিদাকে ঘিরে জমজমাট হয়ে উঠেছে। সাপ্তাহে দুই দিন হাট বসলেও এখন সপ্তাহে ছয় দিন কলার বেচাকেনা হয়।

মধুপুর গড়কে আনারসের রাজধানী বলা হলেও কলার ক্ষেত্রেও এটি দেশের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। লাল মাটির উর্বর মৃত্তিকায় কলা, আনারস, পেঁপে, আদা, কচুসহ অন্যান্য ফসল চাষ হয়। স্থানীয়রা জানান, কলার গুণগত মান ভালো হওয়ায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা এখানে কলা কিনতে আসেন।

বাজারে বিভিন্ন প্রজাতির কলা পাওয়া যায়। সাগর, সর্বি, বিচি, চাম্পা প্রজাতির কলা ছাড়াও স্থানীয় গড় কলার চাহিদা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। পাইকাররা জানান, আকার ও গুণগত মান অনুযায়ী প্রতি ছড়ি কলা ২০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

জলছত্র ট্রাক ও কভার্ড ড্রাইভার্স শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য বিল্লাল হোসেন জানান, প্রতিদিন শতাধিক কলার গাড়ি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানো হয়। পাইকারদের সুবিধার জন্য বাজারেই ট্রাক অফিস, থাকার ব্যবস্থা ও যোগাযোগ সুবিধা রয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও চাষীরা জানান, সার, কীটনাশক ও উৎপাদন খরচ বেড়ে গেলেও এ সময়ে ভালো দাম পাচ্ছেন। একাধিক চাষী বলেছেন, এই বাজার থেকে কলা কিনে দেশের বিভিন্ন জেলা ও শহরে বিক্রি করে ভালো লাভ হচ্ছে।

মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রকিব আল রানা বলেন, “এ বছর মধুপুরের লাল মাটিতে প্রচুর পরিমাণে সাগর, সর্বি, বিচি ও চাম্পা প্রজাতির কলা উৎপাদিত হয়েছে। কলার ফলন ভালো হওয়ায় চাষীরা উপযুক্ত দাম পাচ্ছেন। পাশাপাশি চাষীদের ব্যাগিং পদ্ধতি ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত পরামর্শ দিয়ে খরচ কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, মধুপুর গড়ের কলা বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক হওয়ায় দিন দিন চাষীরা কলা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। ভালো বাজার, ট্রাক অফিস ও সুষ্ঠু যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকায় পাইকারদের আগমন বাড়ছে এবং কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হচ্ছেন।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি

Sangbad Image

অপরাধ ও দুর্নীতি: ৬ জেলার পুলিশ সুপার বদলি