খননের নামে নদী ‘লুট’

প্রতিনিধি, নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ)

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় শেরখাই ও নরখাই নদী খনন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৬ কোটি টাকার এই প্রকল্পে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ না করে দায়সারা খনন, উত্তোলিত মাটি বিক্রি এবং বিল অনুমোদনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে প্রভাবিত করার অভিযোগে এলাকায় তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনিয়মের প্রতিবাদে মানববন্ধন হলেও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের নীরবতায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দীঘলবাক ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ হাসান দোলনকে সভাপতি করে জাইকার অর্থায়নে শেরখাই ও নরখাই নদী খননের জন্য ৬ কোটি ১২ লাখ টাকার একটি প্রকল্প কমিটি গঠন করা হয়। তবে সরকার পরিবর্তনের পর বিএনপি, এনসিপি ও জাতীয় পার্টির কয়েকজন নেতাকর্মী প্রকল্পটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী নদী দুটি ১০ ফুট গভীর করে খননের কথা থাকলেও বাস্তবে মাত্র ২ থেকে ৩ ফুট গভীরতা পর্যন্ত খনন করা হচ্ছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানি বেড়ে গেলে প্রকৃত গভীরতা নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়বে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি নদী থেকে উত্তোলিত মাটি বিক্রি করেও অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

https://sangbad.net.bd/images/2026/March/05Mar26/news/20260305_112938.jpg

সম্প্রতি কয়েকজন স্থানীয় সাংবাদিক খননকাজের ছবি তুলতে গেলে সাইটে উপস্থিত শাহান চৌধুরী নামে এক তরুণ তাদের বাধা দেন এবং মারমুখী আচরণ করেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ছাদিক মিয়া বলেন, প্রকল্প কমিটির কার্যক্রম কয়েকজনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ১০ ফুটের জায়গায় মাত্র ২-৩ ফুট খনন করা হচ্ছে। অনিয়মের প্রতিবাদে মানববন্ধন করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে মনে হচ্ছে সবার যোগসাজশেই প্রকল্প লুটের আয়োজন চলছে।

আরেক বাসিন্দা জালাল উদ্দিন বলেন, যে পরিমাণ খনন করা হচ্ছে তা এক মৌসুমেই ভরাট হয়ে যাবে। এতে নদী খনন কর্মসূচির কোনো সুফল মিলবে না।

মাওলানা আব্দুর রহিম বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী খননের সময় উত্তোলিত মাটি নদীর পাশে রাখার কথা থাকলেও তা অন্যত্র বিক্রি করা হচ্ছে। মাত্র ২-৩ ফুট খননে কোনো স্থায়ী উপকার হবে না; অল্প সময়ের মধ্যেই নদী আবার ভরাট হয়ে যাবে। এটি যেন প্রকৃত নদী খনন নয়, দায়সারা কাজ।

এ বিষয়ে প্রকল্প কমিটির সভাপতি খালেদ হাসান দোলন বলেন, তারা সরাসরি কাজ করছেন না; টেন্ডারের মাধ্যমে ঠিকাদার কাজটি করছেন। কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে উপজেলা প্রকৌশলী অফিস বিষয়টি দেখবে। সমিতির অফিস পরিচালনার জন্য কিছু কমিশন নেওয়া হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন। তবে মাটি বিক্রির বিষয়ে তিনি অবগত নন বলেও জানান।

নবীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী প্রকৌশলী সিরাজ মোল্লা বলেন, বিষয়টি তার পুরোপুরি জানা নেই। তদারকির দায়িত্ব অনুযায়ী বিষয়টি দেখা হচ্ছে। কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিস্তারিত জানতে হলে অফিসে এসে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি