রমজান ঘিরে বাজারে প্রচুর পরিমাণে কলার আমদানি বেড়েছে। চাহিদাও বেড়েছে এ মাসে। দামও ভালো যাচ্ছে। সপ্তাহে দুদিন হাটবার থাকলেও এখন সপ্তাহে ৬ দিন বেচাকেনা হয়। বাজার জমে হয়েছে জমজমাট। মধুপুরের এ হাটের কলা যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়।
টাঙ্গাইলের মধুপুর গড় আনারসের রাজধানী হলেও কলার দ্বিতীয় রাজধানী বলা হয় এ গড়কে। লাল মাটিতে আনারসের পাশাপাশি ব্যাপক পরিমাণে কলার চাষ হয়ে থাকে। লাল মাটির উর্বর মৃত্তিকা কৃষি ফসল উৎপাদনের জন্য বিশেষ উপযোগী। তাই উঁচু বন্যামুক্ত হওয়ায় মধুপুরে প্রচুর পরিমাণে আনারস, পেঁপে, আদা, কচুসহ রের্কড পরিমাণে কলা চাষ হয়ে থাকে। তাই স্থানীয়রা মধুপুর গড়কে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর কলার রাজধানী বলে থাকে। প্রতি বছরের মতো এ বছরও কলার ভালো ফলন হয়েছে। সারা বছর বাজার বসে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে জলছত্র বাজারে। কলার গুণগত মান ভালো থাকায় চাহিদাও বেশি, এজন্য দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ক্রেতা আসে এ বাজারে কলা কিনতে এমনটাই জানালেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা জানান, আনারসের মতো গড় অঞ্চলের কলারও সুনাম সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে কৃষকের উৎপাদন খরচ বেড়ে গেলেও ভালে দাম পাচ্ছে চাষিরা। চাষি পাইকারদের সুবিধার জন্য জলছত্র ট্রাক ড্রাইভার্স ইউনিয়ন তাদের নিজস্ব অফিসে থাকা-খাওয়ার সুবিধার জন্য আবাসিক হোটেল ও রেস্তোরাঁর ব্যবস্থা করে কলার বাজারকে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছে। আর কৃষি বিভাগ বলছে, এবার কলার ভালো দাম পাচ্ছে চাষিরা। লাল মাটির কলার গুণগত মান ভালো থাকার কারণে চাহিদাও বেশি যে কারণে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্রেতারা আসে কলা কিনতে।
জানা যায়, টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়ের উর্বর লাল মাটিতে বেড়েছে কলার আবাদ। প্রতি বছরের মতো এ বছরও ফলন হয়েছে ভালো। মধুপুর গড়ের বাগান, বাজার ও জলছত্র কলার হাট থেকে প্রতিদিন প্রায় কোটি টাকার কলা বিক্রি হয়ে থাকে।
কুমিল্লা থেকে কলা কিনতে আসা ক্রেতা শফিক জানান, মধুপুরে কলার সঙ্গে আনারসও কেনা যায়। সাগর, সর্বি, বিচি, চাম্পা কলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির কলা পাওয়া যায়। তাদের এলাকায় মধুপুরের করার চাহিদা বেশি বলেও জানান এই ক্রেতা।
জলছত্র ট্রাক ও কভার্ড ড্রাইভার্স শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য বিল্লাল হোসেন বলেন, এ বাজার থেকে প্রতিদিন প্রায় শতাধিক কলার গাড়ি দেশের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে থাকে। পাইকারদের সুবিধার জন্য বাজারেই রয়েছে ট্রাক অফিস। থাকা খাওয়া ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকার কারণে সারা বছরই বাজার জমে থাকে। এ জন্য ট্রাক অফিস ও স্থানীয়রা সহযোগিতা করে থাকে।
জলছত্র বাজারের করার ব্যবসায়ী আরশেদ আলী বলেন, সে এ বাজারেই কলা ক্রয় বিক্রয় করে থাকে।
সুনামগঞ্জের ক্রেতা তাহের আলী বলেন, সে ১৬ বছর যাবৎ এ বাজার থেকে কলা কিনে তার এলাকায় বিক্রি করে থাকে। এতে তার ভালো লাভ হয়। তবে বর্তমানে খরচ বেড়ে গেছে বলেও জানান। আব্দুর কাদের বলেন, ১২৫ ছড়ি কলা বাজারে এনে ৪৮ হাজার টাকা বিক্রি করেছে। তার মতে, বাজার ভালো। সে এ বাজারেই তার বাগানের করা বিক্রি করে থাকে বলে জানান। স্থানীয় জানালেন, সার, কীটনাশক ও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কলা চাষে খরচ আগের তুলনায় বেড়ে গেলেও এ সময়ে ভালো দাম পাচ্ছেন বলে জানান চাষিরা।
কলা বিক্রি করতে আসা চাষি ও পাইকাররা জানান, বাজারে আকারভেদে প্রতি ছড়ি কলা বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ১২০০ টাকা দরে। গড় এলাকার বিভিন্ন বাগান বাজারে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, কিশোরগঞ্জ, পাবনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকার এসে কলা কিনে নিয়ে যাচ্ছে। এ এলাকার কলার গুণগত মান ভালো থাকায় দেশজুড়ে রয়েছে চাহিদা। ভালো দামে বিক্রি হচ্ছে কলা। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকার কারণে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসছে পাইকাররা। চড়া দামে কলা কিনেও ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় নিয়ে সেখানেও আশানুরূপ লাভ পাচ্ছে বলে জানান পাইকাররা।
মধুপুর উপজেলা কর্মকর্তা কৃষি রকিব আল রানা জানান, এ বছর মধুপুরের লাল মাটিতে প্রচুর পরিমাণে সাগর, সর্বি, বিচি, চাম্পা কলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির কলা আবাদ করা হয়ে থাকে। এখানে বাণিজ্যিকভাবে কলা হয়। কলার ফলন ভালো হওয়ায় চাষিরা দামও পাচ্ছে ভালো। খরচ কমানো জন্য ব্যাগিং পদ্ধতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে চাষিদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
মধুপুর গড়কে আনারসের রাজধানী বলা হলেও এ এলাকার উর্বর লাল মাটিতে দিন দিন কলা চাষে ঝুঁকছেন চাষিরা। যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বাজারের ট্রাক অফিসে সুযোগ-সুবিধা থাকায় বাড়ছে পাইকার। অল্প জমি অধিক ফসল চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার জন্য কৃষক কলা চাষে এগিয়ে যাচ্ছে।