শাহজাদপুরে সূর্যমুখীর চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। স্বল্প সময়ে ও কম খরচে লাভজনক ফসল হওয়ায় সূর্যমুখীর আবাদ কৃষকদের স্বাবলম্বী হওয়ার পথ দেখাচ্ছে। ফলে চলতি বছর উপজেলায় সূর্যমুখীর আবাদ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আগ্রহ বেড়েছে এলাকার কৃষকদের। এদিকে সবুজের মাঝে চোখ জুড়ানো হলুদ রঙের সূর্যমুখী ফুলের সৌন্দর্য দর্শক হৃদয়ে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে। সূর্যমুখীর মনোরম দৃশ্য উপভোগ করছে সৌন্দর্য প্রেমিকরা দলে দলে ভীড় করছে মাঠে মাঠে।
জানা গেছে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তেল বীজ উৎপাদন প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে প্রণোদনা নিয়ে সূর্যমুখীর আবাদ করেছে এলাকার কৃষকরা। গত বছর পরীক্ষামূলকভাবে সামান্য জমিতে সূর্যমুখী চাষ করে ভালো ফলন ও দাম পেয়েছেন কৃষকরা। তাই চলতি বছর উপজেলার রূপবাটি, জালালপুর, খুকনী?, গালা ও সোনাতনী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় সূর্যমুখীর চাষ করা হয়েছে। এলাকায় ঘুরে জানা গেছে, স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে বীজ ও সার নিয়ে পতিত জমিসহ বিভিন্ন জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেছেন কৃষকরা। কৃষি অফিসের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের পরামর্শ, দিকনির্দেশনা ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে গাছগুলো বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুলে ফুলে ভরে গেছে মাঠ। সূর্যের দিকে তাকিয়ে থাকে সূর্যমুখী ফুল। সকাল বেলা পূর্ব দিকে তাকিয়ে থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের সঙ্গে ঘুরতে থাকে সূর্যমুখী।
উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের কৃষক ওমর ফারুক শেখ ও আমোদ আলী জানান, গত বছর কৃষি অফিসের পরামর্শে পরীক্ষামূলকভাবে সামান্য কিছু জমিতে তারা সূর্যমুখীর চাষ করেছিলেন। তাতে আশাতীত ফলন ও ভালো দাম পেয়েছিলেন। তাই চলতি বছর তিন বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছেন তারা। গাছ ও ফুল দেখে ভালো ফলনের আশায় স্বপ্ন বুনছেন কৃষকরা।
অন্যদিকে রূপবাটি ইউনিয়নের বড়ধুনাইল গ্রামের কৃষক আলমাস আলী, রাজিব শেখ, আব্দুস সালাম, এবং একই ইউনিয়নের বিন্নাদাইর গ্রামের কৃষক আবুল কালাম সূর্যমুখীর চাষ করেছেন। এ ছাড়া উপজেলার আন্ধারমানিক ও করশালিকাসহ গালা, খুকনী ও যমুনা তীরবর্তী সোনাতনী ইউনিয়নের বিভিন্ন চরাঞ্চলে সূর্যমুখীর আবাদ করা হয়েছে। কৃষকরা জানান, বীজ রোপণের ৩ থেকে সাড়ে ৩ মাসের মধ্যে ফসল ঘরে তোলা যাবে। এ প্রসঙ্গে কৃষকরা জানান, দুই মাস আগে বীজ রোপণ করা হয়েছে। এপ্রিল মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে ফসল ঘরে তোলা যাবে। তারা জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি বছর সূর্যমুখীর আবাদ ভালো হওয়ায় আশাতীত ফলন পাওয়ার আশা করছেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, দেশে ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতা কমাতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে প্রণোদনা কার্যক্রমের আওতায় সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে। তিনি জানান, চলতি বছর উপজেলার ৬ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সূর্যমুখী চাষে আগ্রহ বাড়াতে উপজেলার ২০ জন কৃষককে বিনামূল্যে জনপ্রতি এক কেজি সূর্যমুখীর বীজ, ১০ কেজি ডিএপি সার ও ১০ কেজি এমওপি সার প্রদান করা হয়েছে। প্রতি বিঘা জমিতে ৬ থেকে ৭ মন বীজ পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বাজারে প্রতি কেজি সূর্যমুখীর বীজ ১২শ টাকা থেকে ১৪শ টাকা দরে বিক্রি করা যাবে।
সূর্যমুখী ফুলের বীজ থেকে যে তেল পাওয়া যায় তা তুলনামূলক বেশ দামি। মূলত ভোজ্য তেলের জন্য এ ফসলের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। তিনি বলেন, কৃষকরা আগ্রহী হলে আগামীতে সূর্যমুখীর আবাদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষি অফিস থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
আন্তর্জাতিক: নেপালে নির্বাচনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন, ফলাফলের অপেক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য: তেলের দাম ছাড়াতে পারে ১৫০ ডলার, বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা