পার্বতীপুরে আলুর বাম্পার ফলন হলেও দাম না পাওয়ায় কৃষকরা হতাশায় পরেছে। দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার ১০ ইউনিয়ন ও ১টি পৌর সভায় চলতি মৌসুমে ৯ হাজার ৪শ’ ৯৭ একর জমিতে আলু চাষাবাদ হয়েছে। গত বছরের চেয়ে এবার ২ হাজার একর জমিতে আলু কম লাগানো হয়। ৬০ টাকা কেজি দরে আলু বীজ সংগ্রহ করে কৃষকরা জমিতে আলু বীজ রোপন করে। লাভের আশায় কৃষকরা জমিতে চড়া দামে রাসায়নিক সার কীটনাশক ওষুধ প্রয়োগ করে। ফলন হয় ভালো। কিন্তু আলুর দাম নেই বললে চলে। বর্তমানে পার্বতীপুরের হাট-বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে দেশি ১০-১২ টাকা দরে আর কাটিলাল, ডায়মন্ড জাতীয় আলু বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৭-৮ টাকা দরে। গত শনিবার সকাল ১১টায় ছোট হরিপুর গ্রামে সরেজমিনে গেলে আলু খেতের জমির মালিক জসিম (৪৫), মজিবার রহমান (৩৪), কালু মিয়া (৫৭) সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, এবার অনেক আশা করি আলু গাড়ছিলাম। কিন্তু আশাপূরণ হইল না। এক বিঘা ৬০ শতক জমিতে আলু লাগে লাভ তো দূরের কথা বিঘাপ্রতি ৩-৪ হাজার টাকা লোকসান। কারণ হিসেবে তারা বলেন আলু খেতে প্রচুর পরিমাণ কীটনাশক ওষুধ স্প্রে করতে হয়।
যে লোক দিয়ে ওষুধ স্প্রে করতে হয় তার দিনমজুরী দিতে হয় ৫-৭শ’ টাকা করে। আমরা অনেক আশা করে আলু লাগাইছিলাম। ১ কেজি আলু বিক্রি করবো ২০-২৫ টাকা দরে। এখন জমি থেকে আলু তুলে বাজারে বিক্রি করছি দেশি আলু ১০-১২ দরে। কাটিলাল আর ডায়মন্ড আলু বিক্রি করছি ৭-৮ দরে। তাহলে তোমরায় কম বাহে আলু লাগামো কি ভাবে। কথা হয় জমি থেকে আলু আহরণকারী দিনমজুর চানু বালা (৩৮), শ্রীমতি মানতি বালা (৩৫) সঙ্গে। তারা বলেন, এবার আলুর ফলন ভালো হইছে সাংবাদিক বেটা, আলুর দাম নাই বেলে বাহে। এই জন্য এমরা হামাক দিন গেইলে ২৫০-৩০০ টাকা দিবে। এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬ দুপুর ১২টায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিব হুসাইন সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দৈনিক সংবাদকে বলেন গত বছরে আলুর দাম ছিল প্রচুর। ১ কেজি আলু ৮০-৯০ টাকা দরে গ্রাহকরা ক্রয় করেছে। সে কারণে কৃষকরা আলু চাষাবাদে আগ্রহ বেড়ে যায়। এবার ঘন কুয়াশা অল্পদিন স্থায়ী থাকার কারণে আলু খেতে তেমন রোগ বালাই দেখা দেয়নি। তাই আলুর ফলন ভালো হয়েছে।