image

কৃষক মশিউর রহমান কালোজিরা নয় কালো হীরার সন্ধানে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন

প্রতিনিধি, বদরগঞ্জ (রংপুর)

রংপুরের বদরগঞ্জের কৃষক মশিউর রহমান প্রথমবারের মতো কালোজিরার চাষ করছেন। তার কাছে এ যেন কালোজিরা নয় কালোহীরা। একারণে তিনি দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, রোদযুক্ত উঁচু ও মাঝারি উচুঁ দোআঁশ বা বেলে দোআঁশ মাটি যেখানে পানি জমেনা এমন মাটিই কালোজিরা চাষের জন্য সর্বোত্তম। সাধারণত কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে জমিতে পঁচা গোবর ছিটিয়ে আড়াআড়িভাবে ৪-৫টি চাষ দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে নিতে হয়। এসময় জমিতে সামান্য পরিমাণে টিএসপি এবং এমওপি সারও প্রয়োগ করা যেতে পারে। এরপর হেক্টর প্রতি ৮-১০ কেজি বীজ বপণ করতে হয়। যেখানে সারি থেকে সারি ১৫ সেন্টিমিটার ও চারা থেকে চারার দূরত্ব ১০ সেন্টিমিটার রাখতে হয়। এরপর জমিতে বীজ বপণের দিন থেকে চার মাস পর ফাল্গুন- চৈত্র মাসে গাছ শুকিয়ে হলুদ হলে তা’ তুলে রোদে শুকাতে হয়। পরে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে বীজ সংগ্রহ করতে হয়। সেচ ও বালাই ব্যবস্থাপনা সঠিক হলে বিঘায় (৩৩ শতক) ৩৫-৪০ হাজার টাকা লাভ হয়। যা অন্য ফসলে সম্ভব নয়। একারণে কালোজিরাকে কালো সোনা বলা হয়ে থাকে।

উল্লেখ্য- বদরগঞ্জ উপজেলায় কালোজিরার চাষ একেবারেই নতুন। অভিজ্ঞতা না থাকায় এলাকার চাষিরা কালোজিরার চাষে তেমন উৎসাহী নয়। তবে গতবছর স্বল্প পরিসরে উপজেলার গোপিনাথপুর ইউনিয়নের হেলারচক এলাকার আরিফ নামে এক চাষি প্রথমবারের মতো কালোজিরা চাষ করে সফলতা পান। তবে এবারে ওই ইউনিয়নের শালবাড়ি আমডাঙ্গা পাড়ার চাষি মশিউর রহমান ইউটিউব দেখে কালোজিরা চাষে উদ্বুদ্ধ হন। কিন্তু বাজারে বীজ না পাওয়ায় তিনি ছুটে যান উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মহেববুল ইসলামের কাছে। পরে ওই উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মশলা গবেষণা ইন্সটিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা রিয়াজুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করে ৬০ শতক জমির জন্য এক কেজি ৮শ’ গ্রাম বীজ সংগ্রহ করে ওই চাষিকে দেন। বীজ সংগ্রহে কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় তা’ বপণেও বিলম্ব হয়। তারপরও কালোজিরার চারা ব্যাপকভাবে গজায়। কিন্তু অভিজ্ঞতার অভাবে চারা গজানোর পর কিছুটা সেচ বেশি দেয়ায় ২০ শতক জমির চারাগাছ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। এখন ৪০ শতক জমিতে কালোজিরা রয়েছে। ইতোমধ্যে গাছে কালোজিরার ফুলসহ দানা বাঁধতে শুরু করেছে। সরেজিমন এলাকা পরিদর্শণকালে কথা হয় চাষি মশিউরের সঙ্গে। তিনি বলেন, অভিজ্ঞতা না থাকায় প্রথমেই হোঁচট খেয়েছি। তবে তা’ এখন সামলে উঠেছি। তিনি বলেন, বর্তমানে কালোজিরার ফুল ও দানা দেখে বুকটা ভরে যাচ্ছে। তিনি বলেন, যতটুকু জেনেছি এত কম খরচে কোন ফসলেই এত বেশি লাভ করা সম্ভব নয়। যা শুধু কালোজিরা চাষেই সম্ভব। তিনি আরো বলেন, ভাই! আমার কাছে এটা কালোজিরা নয়, কালোহীরা। একারণে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছি।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মহেববুল ইসলাম বলেন, কালোজিরা এলাকায় নতুন ফসল। একারণে এ ফসল সম্পর্কে সবারই অভিজ্ঞতা কম। ফলে আর্থিক ক্ষতির ভয়ে চাষিরা কালোজিরা চাষে কখনোই আগ্রহ দেখাননি। তবে চাষি মশিউর রহমান সেই ভয়কে জয় করেছেন এবং কালোজিরা চাষে অভাবনীয় সাফল্যের দোরগোড়ায় উপনিত হয়েছেন। তাই আশা করছি মশিউরকে দেখে আগামিদিনে কালোজিরাসহ মশলা জাতীয় ফসল চাষে অন্য চাষিরা মনোযোগী হবেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সেলিনা আফরোজ বলেন, মসলা জাতীয় ফসল চাষে চাষিদের নানাভাবে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। কিন্তু অভিজ্ঞতার অভাবে চাষিরা বেশিরভাগ সময়ই নতুন ফসল চাষে আগ্রহী হননা। এক্ষেত্রে চাষি মশিউর সবার কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছেন। তাকে দেখে অন্য চাষিরা মসলা জাতীয় ফসল চাষে এগিয়ে আসবেন এবং কম খরচে অধিক লাভবান হবেন বলে আশা করছি।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি