রাজনৈতিক দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে টানা কয়েকদিন ধরে সংঘর্ষ চলায় কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বড়িয়া গ্রাম এখন প্রায় পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। একদিকে চলছে দু’পক্ষের হামলা, অন্যদিকে বাড়িঘরে লুটপাট। শুধু তাই নয়, গোয়ালঘর থেকে গরু-ছাগল এবং ঘর থেকে চালের বস্তাও নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
রাজনৈতিক দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের হামলার ঘটনায় প্রায় পাঁচ শতাধিক গ্রামবাসীকে আসামি করে মামলা হওয়ায় অনেক পুরুষ গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে আছেন। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ ও সেনাবাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বটতৈল ইউনিয়নের বড়িয়া গ্রামের ২ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষের বসবাস। তারা কৃষিসহ বিভিন্ন পেশায় জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনে কুষ্টিয়া সদর আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকারকে পরাজিত করে জামায়াত প্রার্থী মুফতি আমির হামজা জয়লাভ করেন। এর জের ধরে বড়িয়া গ্রামের কয়েকটি এলাকায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে সাবেক মেম্বার আব্দুল হান্নান গ্রুপের সঙ্গে একই ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার সাইফুলের লোকজনের মধ্যে সামাজিক দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এ ঘটনায় নারীসহ ৪০ থেকে ৫০ জন আহত হন, যারা বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থক বলে জানা গেছে। এছাড়া দেড় শতাধিক বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। লুটপাট করা হয় ঘরের আসবাবপত্র, গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন মালামাল। পরবর্তীতে দু’পক্ষের করা মামলায় অনেককে আসামি করা হলে গ্রামটি প্রায় পুরুষশূন্য হয়ে পড়ে। ফলে দিন-রাত আতঙ্কের মধ্যে জীবন কাটাচ্ছেন গ্রামের গৃহবধূ ও নারীরা। তাদের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে যেকোনো মূল্যে গ্রামে শান্তি ফিরিয়ে আনা হোক।
ভুক্তভোগী বিএনপির সমর্থকদের দাবি, নির্বাচনের পর থেকে এ গ্রামে আওয়ামী লীগের দোসররা জামায়াতে যোগ দেওয়ায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দু’পক্ষের হামলার পাশাপাশি বাড়িঘরে চুরি ও লুটপাটের ঘটনা ঘটছে। গোয়ালঘর থেকে গরু-ছাগল এবং ঘর থেকে চালের বস্তাও লুট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
অন্যদিকে ভুক্তভোগী জামায়াত সমর্থকদের অভিযোগ, বিএনপি প্রার্থীকে ভোট না দেওয়ায় বিএনপির নেতাকর্মীরা সন্ধ্যার পর তাদের গ্রামে এসে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। তারা তাদের জিম্মি করে মারধর করে এবং বাড়িঘরে লুটপাট চালায়। এ ঘটনায় বিএনপির এক নেতাকে দেশীয় অস্ত্রসহ সেনাবাহিনী গ্রেফতার করেছে বলেও তারা দাবি করেন।
কুষ্টিয়া বিএনপির নেতা অ্যাডভোকেট শামিমুল হাসান অপু বলেন, এটি মূলত সামাজিক দ্বন্দ্ব এবং কিছুটা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে ঘটেছে। দু’পক্ষের সংঘর্ষে জামায়াত ও বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এ ঘটনায় কয়েকটি বাড়িঘরে লুটপাটের বিষয়েও তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।
এদিকে কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা বলেন, বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য প্রশাসন কাজ করছে। সামাজিক দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে কেউ কেউ এটিকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে।