টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়ের বন বিভাগের গড়গড়িয়া এলাকায় লেক খননের প্রতিবাদে ‘আদিবাসী ছাত্র-জনতা’ ব্যানারে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে গারো ও কোচ সম্প্রদায়ের লোকজন।
শুক্রবার (৬ মার্চ) বনাঞ্চলের অরণখোলা ইউনিয়নের আমলিতলা ফুটবল মাঠে অনুষ্ঠিত এ বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে মধুপুরের আদিবাসী ছাত্র-জনতা। সমাবেশে মধুপুরের বিভিন্ন গ্রামের গারো ও কোচ সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ, ছাত্র, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশ নেন। এতে বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরাম ও পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরাও যোগ দেন।
সকাল ১১টা থেকে গারো ও কোচ সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষরা সমাবেশস্থলে জড়ো হতে থাকেন। সাড়ে ১১টায় সমাবেশ শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের সাবেক সভাপতি আন্তনী রেমা।
সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জনযেত্রা, গারো স্টুডেন্ট ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক লিয়াং রিছিল, কোচ আদিবাসী সংগঠনের মধুপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক গৌরাঙ্গ বর্মন, গারো নারী নেত্রী অর্পণা দফো, গারো স্টুডেন্ট ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি প্রলয় নকরেক, বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের সভাপতি টনি ম্যাথিউ চিরান, পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি কনেজ চাকমা, গারো স্টুডেন্ট ইউনিয়ন (গাসু) কেন্দ্রীয় কমিটির সাংস্কৃতিক সম্পাদক জানকী চিসিম, বাংলাদেশ ম্রো স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের পায়া ম্রো, বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠন (বাগাছাস)-এর সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব রেমা, আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ঢাকা মহানগর শাখার সদস্য কুর্নিকোভা চাকমা, জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের প্রচার সম্পাদক জুয়েল রিছিল এবং গারো স্টুডেন্ট ফেডারেশন (জিএসএফ) মধুপুর উপজেলা শাখার সভাপতি তুষার নেকলা প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা সমতল অঞ্চলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠনের দাবি জানান। তারা বলেন, “যতদূর চোখ যায় ততদূরই আমাদের বসতি। এই মাটিতেই আমাদের পূর্বপুরুষদের সমাধি রয়েছে।” বক্তারা আরও বলেন, মধুপুর বনভূমি কোনো নিছক বনভূমি নয়; এটি তাদের অস্তিত্ব, শিকড় ও ইতিহাসের অংশ। গারো, কোচ ও বর্মণসহ আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবন, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের সঙ্গে এই বন ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। স্মরণাতীত কাল থেকে এ শালবন তাদের পূর্বপুরুষদের স্মৃতি, জীবন-জীবিকার ভিত্তি এবং আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যতের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
বক্তারা বলেন, লেক খননের ফলে মধুপুর বনের প্রাণবৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে এবং বন ও প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বন ধ্বংস করে কৃষিজমি নষ্ট করে এমন লেক খনন ন্যায়সঙ্গত নয় বলেও তারা মন্তব্য করেন। এ সময় তারা লেক খননের প্রতিবাদ জানান।
তবে বন বিভাগ জানিয়েছে, তাদের নিজস্ব বনভূমির জমিতেই লেক খনন করা হচ্ছে। আদিবাসী নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও সিএমসি সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেই কাজ শুরু করা হয়েছে বলে দাবি তাদের। কারও দখলীয় জমিতে লেক খনন করা হচ্ছে না বলেও তারা জানিয়েছে।
বন বিভাগের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, গড়গড়িয়া এলাকায় আগে থেকেই একটি লেক ছিল। সেটি সংস্কার করার পাশাপাশি পাশেই নতুন করে খনন করা হচ্ছে। এর ফলে বন্যপ্রাণীরা পানীয় জলের সুবিধা পাবে।