কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার গড়াই নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া চার শিশুর মধ্যে দুই জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ অপর দুই শিশুর সন্ধানে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় জেলেরা নদীতে তল্লাশি চালাচ্ছে। খুলনা থেকে ডুবুরি দল এসে পৌঁছালে মূল উদ্ধার অভিযান শুরু হবে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
শনিবার (৭ মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে খোকসা-ওসমানপুর খেয়া ঘাট এলাকায় গড়াই নদীতে গোসল করতে নামে চার কন্যা শিশু। তারা সাঁতার কেটে নদীর মাঝখানে জেগে ওঠা একটি চরে যাওয়ার চেষ্টা করলে নদীর তীব্র স্রোতে তারা ভেসে যায়। খেয়া ঘাটে থাকা ডিঙ্গি নৌকার মাঝিরা তাৎক্ষণিকভাবে দুই শিশুকে জীবিত উদ্ধার করলেও বাকি দুই শিশু নিখোঁজ হয়।
জীবিত উদ্ধার হওয়া শিশুরা হলো উপজেলার ওসমানপুর ইউনিয়নের ওসমানপুর গ্রামের সামিয়া (৬) ও সুমায়য়া (৮)। নিখোঁজ শিশুরা একই এলাকার ফারুকের মেয়ে তাইফা (৭) ও সোহেলের মেয়ে সুরাইয়া (৮)। তারা সবাই আত্মীয়।
উদ্ধার হওয়া শিশু সামিয়া জানায়, তারা চারজন একসঙ্গে নদীতে গোসল করতে নামে। চরে যাওয়ার জন্য সাঁতার কাটতে থাকলে হঠাৎ স্রোতে তারা ভেসে যেতে থাকে। সবাই ডাঙ্গায় ওঠার চেষ্টা করলেও অন্য দুই বোন ভেসে গেছে।
জীবিত দুই শিশুকে উদ্ধার করা ডিঙ্গি নৌকার মাঝি আব্দুর রশিদ জানান, দুপুর আড়াইটার দিকে তিনি ওসমানপুর ঘাটে শিশুদের সাঁতার কাটতে দেখেন। যাত্রী নামিয়ে দেওয়ার সময় হঠাৎ তিন শিশুকে ভেসে যেতে দেখে তিনি দ্রুত নৌকা নিয়ে এগিয়ে যান। পরে দুই শিশুকে জীবিত উদ্ধার করতে পারলেও অপর একটি শিশুকে ডুবে যেতে দেখেছেন।
নিখোঁজের খবর পেয়ে খোকসা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাছ ধরার জাল ফেলে তল্লাশি শুরু করেছে। স্থানীয়রাও উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করছে।
খোকসা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের লিডার রওশন আলী জানান, উদ্ধার হওয়া শিশুদের বক্তব্য অনুযায়ী দুই শিশু নিখোঁজ রয়েছে। নিখোঁজ এক শিশুর পাজামা উদ্ধার করা হয়েছে। খুলনা থেকে একটি ডুবুরি দল রওনা দিয়েছে; রাত ৮টার দিকে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছাবে বলে জানানো হয়েছে। পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা গেলে নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধারে রাতেই অভিযান শুরু করা হতে পারে।
সারাদেশ: ঘোড়াশাল-পলাশ সড়ক বেহাল, দুর্ভোগ