image
পলাশ (নরসিংদী) : ঘোড়াশাল সিএনজি স্ট্যান্ড হতে পলাশ সদর পর্যন্ত সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় চলাচলের অনুপযোগী -সংবাদ

ঘোড়াশাল-পলাশ সড়ক বেহাল, দুর্ভোগ

প্রতিনিধি, পলাশ (নরসিংদী)

পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল সিএনজি স্ট্যান্ড হতে পলাশ উপজেলা সদর পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রধান সড়কটি কয়েকবছর সংস্কার না হওয়ায় চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কের অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে যাত্রী ও যান চালকদের। গুরুত্বপূর্ণ প্রধান সড়কটির চরম নাজুক অবস্থায় যাত্রিরা পড়েছে বিপাকে।

এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন সার কারখানা, ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, জনতা জুট মিল, প্রাণ ডায়েরি কারখানা, প্রাণ-আরএফএল, স্যামরি ডায়িং, ওমেরা এলপিজি গ্যাস কারখানাসহ আরও বেশ কিছু সংখ্যক শিল্প প্রতিষ্ঠানের গাড়ি চলাচল করে। এছাড়া বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্কুল-কলেজের যানবাহন চলাচল করে এ সড়ক দিয়ে। কিন্তু সড়কে ছোট-বড় গর্ত থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে যানবাহন।

সরেজমিনে দেখা যায়, মাত্র পাঁচ কিলোমিটার সড়কে শুকনা মৌসুমে ধুলাবালিতে একাকার। সাধারণ পথচারী, চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। আবার বর্ষার সময় তো বিপদজনক অবস্থা সৃষ্টি হয়। সড়কের ওপরের পিচ উঠে অনেক জায়গায় ছোট-বড় গর্ত। যা বাস্তবে না দেখলে কেউই অনুধাবন করতে পারবেনা। যার ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে যানবাহন।

সড়কটি দিয়ে প্রতিদিনই চলাচল করছে মালবাহী ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, বড় লরি, অটো, সিএনজি, মিশুকসহ অন্যান্য যানবাহন। সবচেয়ে দূরহ অবস্থা ঘোড়াশাল হতে জনতা জুট মিল পর্যন্ত।

অটোরিকশা চালক বাদল মিয়া, সিএনজি চালক মোক্তার হোসেন বলে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার পথ যেতে ১৫ মিনিটে জায়গায় লাগে ৩০/৪০ মিনিট। কিন্তু বড় বড় গর্ত থাকার কারণে গাড়ি চালাতে হয় সাবধানে। অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটে, যাত্রীরাও চরম ভোগান্তির শিকার হয়।

আমাদের গাড়ির বেশ ক্ষতি হয়। আরেক অটোরিকশা চালক মজিবুর রহমান জানান, এই সড়কটি প্রায়ই ৫/৬ বছর ধরে কোনো সংস্কারের মুখ দেখেনি। ছোট-বড় গর্ত থাকায় এ সড়কে দিয়ে রিকশা নিয়ে যাওয়া যায় না। ঝুঁকি থাকায় যাত্রী কম পাই। আমাদের উপার্জনও কমে গেছে। সড়কের পাশের ব্যবসায়ী আবদুল্লাহ মারুফ বলেন, ‘আমার দোকানের সামনে বড় বড় গর্ত, বৃষ্টি হলে পানি জমে আর এখন তো ধুলাবালিতে দোকানে বসা দায়।

বৃষ্টি না হলে প্রচুর ধুলাবালু উড়ে ও যানবাহনের প্রকট শব্দে সমস্যা হচ্ছে। ক্রেতারা এই সড়ক দিয়ে দোকানে আসছে না। পণ্য বিক্রি কমে গেছে। ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই এখন কঠিন হয়ে গিয়েছে। আলাউদ্দিন নামে এক বৃদ্ধ আক্ষেপ করে বলেন, ৫ বছর ধরে রাস্তাটির বেহাল দশা। মানুষজন অসুস্থ হলে হাসপাতালেও নেয়া যায় না। শিক্ষার্থী শাওন, রাফসান ও অভিভাবকরা জানান, এ সড়ক দিয়ে কয়েকটি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী নিয়মিত যাতায়াত করে। বিভিন্ন স্থানে বর্ষায় গর্তে পানি জমে থাকে আর এখন ধুলাবালির রাজত্ব । আর এ গর্তে জমে থাকা কাদাপানি ছিটকে পড়ে পোশাক নষ্ট হয়। অবস্থা এতই খারাপ যে, হেঁটেও চলা যায় না।

পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশতিয়াক আহমেদ জানান, সড়কটি সংস্কারের জন্য নরসিংদী প্রশাসনের সমন্বয় সভায় আলোচনা করা হবে। নরসিংদী সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রেজা-ই রাব্বি বলেন, এই সড়কটি পরিদর্শন করা হয়েছে, যথাশীঘ্র এর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে এলাকাবাসি নতুন সরকারের নিকট সড়কটি দ্রুতসময়ে সংস্কারের সুদৃষ্টি কামনা করছে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি