টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়ের বন বিভাগের গড়গড়িয়া এলাকায় লেক খননের প্রতিবাদে আদিবাসী ছাত্র-জনতার ব্যানারে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে গারো কোচ সম্প্রদায়ের লোকেরা। বনাঞ্চলের অরণখোলা ইউনিয়নের আমলিতলা ফুটবল মাঠে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশটির আয়োজন করে মধুপুরের আদিবাসী ছাত্র-জনতা। সমাবেশে মধুপুরের বিভিন্ন গ্রামের গারো কোচ সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ ছাত্র, শিশু, কিশোরসহ বিভিন্ন পেশার লোকজন অংশ নেয়। এতে যোগ দেয় বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরাম ও পার্বত্য এলাকার ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
তবে বন বিভাগ জানিয়েছে তাদের বনের জমিতে লেক খনন করা হচ্ছে। যা আদিবাসীদের নেতারা, জনপ্রতিনিধি ও সিএমসির নেতাকর্মীদের সঙ্গেই শুরু করা হয়েছে। কারো দখলীয় জমিতে লেক করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে। সকাল ১১টায় সমাবেশে আসতে থাকে গকরো কোচ নারী পুরুষরা। সাড়ে এগোরটায় শুরু হয় সমাবেশ। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ যুব ফোরামের সাবেক সভাপতি আন্তনী রেমা।
এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট জনযেত্রা, গারো স্টুডেন্ট ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক লিয়াং রিছিল, কোচ আদিবাসী সংগঠনের মধুপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক গৌরাঙ্গ বর্মন, গারো নারী নেত্রী অর্পণা দফো, গারো স্টুডেন্ট ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি প্রলয় নকরেক,
বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের সভাপতি টনি ম্যাথিউ চিরান, পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি কনেজ চাকমা, গারো স্টুডেন্ট ইউনিয়ন (গাসু) কেন্দ্রীয় কমিটির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক জানকী চিসিম, বাংলাদেশ ম্রো স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের পায়া ম্রো, বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠন (বাগাছাস) এর সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব রেমাআদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ, ঢাকা মহানগর শাখার সদস্য কুর্নিকোভা চাকমা, জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের প্রচার সম্পাদক জুয়েল রিছিল, গারো স্টুডেন্ট ফেডারেশন (জিএসএফ) মধুপুর উপজেলা শাখার সভাপতি তুষার নেকলা প্রমুখ। সমাবেশে বক্তারা বলেন, সমতল অঞ্চলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠনের দাবি জানান। তারা বলেন, যতদূর চোখ যায় ততদূর তাদের বাড়ি, এই মাটিতেই পোতা আছে তাদের নারী। তারা আরও মধুপুর বনভূমি কোনো নিছক বনভূমি নয়, এটি তাদের অস্তিত্ব, তাদের শিকড়, তাদের ইতিহাস।
গারো কোচ বর্মনসহ আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবন সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের সঙ্গে এই বন ওতো প্রতো ভাবে জড়িয়ে আছে। স্মরণাতীত কাল থেকে এই শালবনে তাদের পূর্ব পুরুষদের স্মৃতি, জীবন- জীবিকার ভিত্তি এবং আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ বলে জানান।
তারা বলেন, লেক খননের ফলে মধুপুর বনের প্রাণবৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে। প্রভাব পড়বে বন ও প্রকৃতি পরিবেশের ওপর। বন ধ্বংস করে কৃষি জমি নষ্ট করে এমন লেক খনন করা ন্যায় সঙ্গত মনে করে না তারা। এ সময় তারা লেক খননের প্রতিবাদ জানান।
তবে বন বিভাগ জানিয়েছে তাদের বনের জমিতে লেক খনন করা হচ্ছে। যা আদিবাসীদের নেতারা, জনপ্রতিনিধি ও সিএমসির নেতাকর্মীদের সঙ্গেই শুরু করা হয়েছে। কারো দখলীয় জমিতে লেক করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে। ঐখানে গড়গড়িয়াতে আগে থেকেই লেক ছিল, সেটাকে সংস্কারসহ পাশেই খনন করা হচ্ছে।
এতে বন্যপ্রাণীদের পানীয় জলের সুবিধা পাবে এমনটিই জানিয়েছে বন বিভাগ।
খেলা: যেভাবে ফাইনালে ভারত