প্রেম মানে না দুরত্ব, মানেনা কোনো বাঁধা, জাতী, ধর্মের। কোন ছোয়ায়ই যেনো তাকে রোধ করে রাখতে পারে না। বাস্তবেও ঠিক তাই ঘটেছে, টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা লোকেরপাড়া ইউনিয়নের পাঁচটিকরী গ্রামে। প্রেমের টানে চীনা যুবক হাজার মাইল পারিদিয়ে বাংলাদেশে ঘাটাইল উপজেলায় মেয়ের বাড়িতে এসে হাজির। তিনি চীনের গংসু প্রদেশের সংজিয়া টাউনশিপ গ্রামের আনচি চানের ছেলে জংজিয়া মামুসা(৩৬)।
মেয়ের নাম মায়া আক্তার (১৪) তিনি গাজীপুরে একটি গার্মেন্টেসে চাকরি করেন। সে পাঁচটি করী গ্রামের আ. মালেকে মিয়ার মেয়ে। তিনিও ঐ এলাকায় নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। বিষয়টি প্রথমে গোপনে হলেও পরে জানাজানি হলে আশপাশের উৎসুক প্রতিবেশী ছেলে কে এক নজরে দেখার জন্য ভিড় জমায় মেয়ের বাড়িতে, যেন এক ভিন্ন ধরনের আমেজ।
এ বিষয়ে সহানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল হক মিলন জানান ৯ম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে ঢাকার নিকটে গাজীপুর জেলার একটি গার্মেমেন্টসে চাকরী করেন এবং পরিবার নিয়ে সেখানেই তারা থাকেন।
মায়া আক্তার জানান অনেক বান্ধবী উইচ্যাট অ্যাপস ডাউনলোড করে অনেক চাইনিজ ছেলেদের সঙ্গে কথা বলে। আমিও সবার দেখাদেখি অ্যাপসটি ডাউনলোড করার পর এক চীনা যুবক জংজিয়া মামুসা (২৬) এর সঙ্গে পরিচয় হয়। পরিচয় শেষে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। মাস খানেক পরে আমাকে বিয়ে করতে চাইলে আমাদের বাংলাদেশে আসতে বলি। হঠাৎ বাবা মা আমাকে অন্যত্র বিয়ে দিতে চাইলে বিষয়টি ছেলেটিকে জানাই তখন ছেলেটি আমি আসতেছি বলে বিমান টিকেট কেটে আমাকে অনলাইনে ম্যাসেজ করে দেখান। তাতেও আমি প্রথমে বিশ্বাস করিনি। যখন বিমান বন্ধরে এসে একটি ছেলেকে দিয়ে আমাকে ফোন করে তখন বিশ্বাস করি। তিনি ট্রান্সলেটের মাধ্যমে জানান আমি ১ মাসের ভিসা নিয়ে তোমাকে বিয়ে করতে এসেছি।
এবিষয়ে মায়া আক্তারের বাবা মালেক মিয়া জানান প্রথমে যখন চায়না ছেলেটি আমাকে খুজে বের করে আমার মেয়ে কে বিয়ে করতে চায়, প্রথমে আমি রাজি হইনি। মেয়ে তাকে ছাড়া বিয়ে বসবে না এমন অনঢ় সিদ্ধান্তের কারণে ছেলেটির মায়ের সঙ্গে আমি যোগাযোগ করি এবং কথা বলে এর সত্যতা পাই। বিষয়টি আমার গ্রামের বাড়িতে আত্মীয় স্বজন কে জানানো পরে সবার সম্মতি নিয়ে রাজি হই। যেহেতু মেয়ে তাকে পছন্দ করেছে তার সুখের জন্য সহনীয় সরকারি কাজী আব্দুল আজিজের মাধ্যমে গত মাসের ২ ফেব্রুয়ারি বিবাহ কাজ সম্পন্ন করা হয়।
এ বিষয়ে লোকেরপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল হক মিলন মুঠোফোনে জানান ঘটনা সত্য তারা গত ফেব্রয়ারী মাসের ২১ তারিখ এসে এখানে বিয়ে করে ঢাকায় চলে যায়। তবে মেয়ের দাদিকে ডেকে এনে আমরা ঘটনার সত্যতা জানতে পারি।
খেলা: যেভাবে ফাইনালে ভারত