দায়িত্বে নিষ্ঠা, নেতৃত্বে দৃঢ়তা এবং কর্মদক্ষতায় উজ্জ্বল উপস্থিতি—শরীয়তপুর জেলার প্রশাসনিক কাঠামোর শীর্ষ পর্যায়ে এখন দৃশ্যমান নারীদের শক্ত অবস্থান। একসময় প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নারীর উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলেছে সেই চিত্র। বর্তমানে জেলার প্রশাসনিক কাঠামোর শীর্ষ ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন ১৬ জন নারী কর্মকর্তা। তাঁদের দক্ষ নেতৃত্বে প্রশাসনিক কার্যক্রমে এসেছে গতি, বেড়েছে সেবার মান ও জবাবদিহিতা।
জেলার সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব পালন করছেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাহসিনা বেগম। একইভাবে জেলার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন পুলিশ সুপার রওনক জাহান। প্রশাসনের এই দুই শীর্ষ পদে দুই নারী কর্মকর্তার দৃঢ় ও পেশাদার নেতৃত্ব শরীয়তপুরের প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
তাদের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ আরও কয়েকটি পদে দায়িত্ব পালন করছেন নারী কর্মকর্তারা। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন মৌসুমী মান্নান এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইসিটি ও শিক্ষা) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সাদিয়া জেরিন।
এছাড়াও জেলা রেজিস্ট্রার হিসেবে রয়েছেন হেলেনা পারভীন, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নাজনীন শামীমা এবং আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত আছেন উম্মে কুলসুম।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিচ্ছেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক জান্নাতুল ফেরদৌস। পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের উপপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সুপ্রিয়া বর এবং জেলা কারাগারের জেলার হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন আসমা আক্তার। মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন রাফিয়া ইসলাম।
উপজেলা পর্যায়েও নারীরা গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিচ্ছেন। শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ইলোরা ইয়াসমিন এবং গোসাইরহাট উপজেলার ইউএনও হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন নুসরাত আরা খানম। এছাড়া ভূমি প্রশাসন ও মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করছেন লাকি দাস, নুসরাত জাহান আরবি এবং মেহেরা আফরোজ সুবর্ণাসহ আরও কয়েকজন নারী কর্মকর্তা।
পরিচয়ে নারী নয়, তাঁরা রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এই দর্শনকে সামনে রেখে সময়জ্ঞান, কর্মনিষ্ঠা ও একাগ্রতার মাধ্যমে শক্ত হাতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাঁরা। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন তদারকি, জনসেবা নিশ্চিতকরণ, মাঠপর্যায়ের অভিযান এবং সমন্বয় সভা সব ক্ষেত্রেই রয়েছে তাঁদের সক্রিয় ও কার্যকর উপস্থিতি।
প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে দায়িত্ব পালনকারী এসব নারী কর্মকর্তা জানান, পেশাগত জীবনে নানা সামাজিক ও কর্মক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ থাকলেও দক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে সেই বাধা অতিক্রম করা সম্ভব। তাঁদের মতে, যোগ্যতার প্রশ্নে লিঙ্গ কোনো বাধা নয়; বরং সুশাসন, উন্নয়ন এবং মানবিক প্রশাসন প্রতিষ্ঠায় নারীদের অংশগ্রহণ প্রশাসনকে আরও শক্তিশালী করে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, শরীয়তপুরে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নারীদের এই শক্ত অবস্থান জেলার জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। দক্ষ নেতৃত্ব, দায়িত্ববোধ এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়ে তারা প্রশাসনিক সেবাকে আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করে তুলছেন।
প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে নারীদের এই দৃঢ় উপস্থিতি কেবল শরীয়তপুরের জন্য নয়, বরং দেশের সামগ্রিক প্রশাসনিক কাঠামোতে নারী নেতৃত্বের সম্ভাবনা ও সক্ষমতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার রওনক জাহান বলেন, পরিবার থেকে সাপোর্ট পেয়ে আজ এখানে। এ ধরনের পদে আসতে যে ধরনের দক্ষতা, যোগ্যতা বা নেতৃত্বের গুণাবলী থাকে বলেই জেলায় প্রধান করা হয়। এখানে নারী বা পুরুষ এটা ফ্যাক্টর নয়। নারি বা পুরুষ না দেখে যিনি আছেন লিডারশিপ পজিশনে সেটাই বিবেচ্য বিষয়।
তিনি আরো বলেন, সামগ্রিকভাবে আমরা যখন দেখি তখন দেখা যায় যে এখানে লিগাল কোনো বেরিয়ার নেই, স্ট্রাকচারাল কোনো বেরিয়ার নেই কিন্তু সামাজিকভাবে বা অন্যান্য দিকে আচরণগত বাধা তো রয়েছেই। আর সেই বাধা কোন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসি টের পাইনা কিন্তু যে ধরনের অভিযোগ সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পাই সেখান থেকে আমরা ধরে নেই নারী এগিয়ে আসা কতটা কঠিন সেটা আইন বা আমাদের সংবিধান তাকে সমান অধিকার দিয়েছে তারপরও বাস্তবতা সেটা আসলে কঠিন ।
এ দায়িত্ব আমি চমৎকারভাবে উপভোগ করছি। জেলায় অন্য দায়িত্বরত নারী কর্মকর্তারদের তাতে কাজ করতে পেরে ভালো লাগছে।
জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, আমি যেটা চেষ্টা করি আমার দায়িত্বটুকু পালন করার সেটার সঙ্গে তো পুরুষের তুলনা নয়। এটা আমার দায়িত্বের সাথে তুলনা। একজন প্রশাসক একজন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট যে দায়িত্বগুলো পালন করা উচিত সেটা মানবিকতার দিক থেকে হোক রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের দিক থেকে হোক আমি সেটা করার চেষ্টা করি। পুরুষকে নিয়ে আমি আমার তুলনা করতে চাই না।
তিনি আরো বলেন, নারি পুরুষের জায়গা থেকে বেশ কিছু জায়গায় থেকে আমাদের অনেকটা প্রতিকূলতার সঙ্গে যুদ্ধ করতে হয়। যুদ্ধ করেও সমপরিমাণ করেও একটা নারীকে প্রমাণ করতে হয় নারী ও পুরুষের ব্যাপারটা চলে আসে কিন্তু এটা। দেখা যাচ্ছে যে একটা কাজের ছেলেরা ব্যর্থ হলে সেটা ওইভাবে আসে না যে তুমি পুরুষ বলে ব্যর্থ কিন্তু দেখা গেছে নারী যদি এই জায়গায় ফেইল করে তাহলে সবাই বলে ও আচ্ছা মেয়ে মানুষ তো, কথাটা চলে আসে। সেখানে নারীকে সতর্ক থাকতে হয়, যেন এসব কথা না উঠে। এজন্য বিশেষ সতর্কতার সাথে কাজ করে নারী সফল হয়।
যেসব দপ্তরে নারী কর্মকর্তারা কাজ করছেন প্রত্যেকেই নিষ্ঠা ও আত্মবিশ্বাসের কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। মেধা ও প্রজ্ঞার প্রমাণ রাখছেন স্ব স্ব দায়িত্বে।
অর্থ-বাণিজ্য: দেশে পেট্রোল-অকটেন উৎপাদন সক্ষমতা চাহিদার প্রায় দ্বিগুণ
অর্থ-বাণিজ্য: আজ থেকে নতুন পদ্ধতিতে জ্বালানি বিক্রি শুরু
অর্থ-বাণিজ্য: পাম্পে পাম্পে ঝুলছে ‘তেল নেই’ পোস্টার