রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় মাত্র এক হাজার ২০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি সড়ক দেড় যুগ ধরে সংস্কারের অভাবে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মৃধাডাঙ্গা ঈদগাহ মাঠ থেকে আবুলের দোকান বেরিবাঁধ পর্যন্ত এই সংযোগ সড়কটি প্রতিদিন ব্যবহার করেন হাজারো মানুষ। কিন্তু দীর্ঘদিন অবহেলায় থাকায় এটি এখন এলাকাবাসীর জন্য অভিশাপে পরিণত হয়েছে।
সড়কটির ৩৪৮ মিটার অংশে পিচঢালাই থাকলেও তা উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বাকি অংশের ইট সোলিংয়ের ৯০ শতাংশ ইট উঠে গেছে। ফলে পুরো সড়কটি এখন খানাখন্দে পরিণত। বর্ষায় কর্দমাক্ত আর শুকনো মৌসুমে ধুলোয় পরিণত হয় এই পথ।
সরেজমিনে দেখা যায়, খানাখন্দে আটকে থাকা বালুতে ব্যাটারিচালিত রিকশার চাকা আটকে গেলে যাত্রীদের নামতে হয় ঠেলতে। শিক্ষার্থী, রোগী ও কৃষিপণ্য পরিবহনকারীদের জন্য এই পথ ব্যবহার করা দুর্বিষহ।
স্থানীয় বাসিন্দা সুলতান মৃধা, মোস্তফা মৃধা ও রাজা মৃধা বলেন, ‘‘গত ১৭ বছরে একাধিকবার আবেদন করেও কোনো সাড়া পাইনি। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ভেবে ইচ্ছাকৃতভাবে আমাদের অবহেলা করা হয়েছে।’’
রাফেজা বেগম নামের এক গৃহবধূ বলেন, ‘‘শ্বশুরবাড়িতে আসার পর থেকেই এই রাস্তার বেহাল দশা দেখছি। প্রতিবার শুনি, রাস্তা হবে। কিন্তু কবে হবে, তার ঠিক নেই।’’
দক্ষিণ উজানচর আলিম মাদ্রাসার দাখিল পরীক্ষার্থী রবিন জানায়, ‘‘জন্মের পর থেকেই এই ভাঙাচোরা রাস্তা দেখছি। অল্প পথ হলেও প্রতিদিন কষ্ট করে হেঁটে যেতে হয়। রাস্তা ভালো থাকলে মিনিট পাঁচেকেই মাদ্রাসা পৌঁছানো যেত।’’
আইয়ুব মৃধা জানান, এই সড়ক ব্যবহার না করে ইউনিয়ন পরিষদ, জামতলা বাজার বা ফরিদপুর যেতে পাঁচ-ছয় কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। তাই অনেকে ঝুঁকি নিয়েও এই পথ ব্যবহার করেন। ফলে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে রাতে আলোর অভাবে দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়।
উল্লেখ্য, সড়কটি শুধু একটি ওয়ার্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; উজানচর ইউনিয়ন পরিষদ, জামতলা বাজার, দক্ষিণ উজানচর আলিম মাদ্রাসা ও পার্শ্ববর্তী ফরিদপুর জেলায় যাতায়াতের জন্য এটি সবচেয়ে সহজ ও গুরুত্বপূর্ণ পথ।
উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) ফয়সাল জাহাঙ্গীর স্বপ্নীল বলেন, ‘‘২০২২-২৩ অর্থবছরে সড়কটির উন্নয়নের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। প্রশাসনিক জটিলতায় তা অনুমোদন মেলেনি। নতুন ডিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত করে আবার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, শিগগিরই অনুমোদন পেয়ে টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে কাজ শুরু হবে।’’
তবে এলাকাবাসী এখন শুধু আশ্বাস নয়, কাজ দেখতে চান। তাদের দাবি, দ্রুত এই সড়কের সংস্কার কাজ শুরু হোক, যেন দেড় যুগের দুর্ভোগের অবসান ঘটে।