image

মরা খোয়াই বাঁচলে বদলাবে চুনারুঘাট

প্রতিনিধি, চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ)

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট পৌরসভা সংলগ্ন পরিত্যক্ত ‘মরা খোয়াই’ নদী একসময় ছিল ব্যস্ত ও প্রাণবন্ত। বর্তমানে এটি মৃত জলাভূমিতে পরিণত হয়েছে। নদীর দুই পাশের জায়গা দখলের চেষ্টাও চলছে। অথচ সঠিক পরিকল্পনা ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই নদীকে ঘিরেই গড়ে তোলা সম্ভব একটি আধুনিক পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্র, যা ঢাকার হাতিরঝিলের আদলে চুনারুঘাটকে দিতে পারে নতুন পরিচিতি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নদীর দুই পাশে প্রায় ৭ একর জায়গা অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। এলাকাবাসীর ধারণা, এখানে ওয়াকওয়ে (হাঁটার পথ), দৃষ্টিনন্দন লেক, বসার স্থান, ছায়াঘেরা পার্ক, শিশুদের খেলার জায়গা, নৌ-ভ্রমণ সুবিধা ও ছোট ফুডকোর্ট নির্মাণ করা হলে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ বিনোদন পার্কে পরিণত হতে পারে।

বর্তমানে নদীতে অবাধে ফেলা হচ্ছে গৃহস্থালি বর্জ্য ও প্লাস্টিকজাত সামগ্রী। বর্ষাকালে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতারও সৃষ্টি হয়। পরিবেশবিদদের আশঙ্কা, দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে এই প্রাকৃতিক জলাধার সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে, যা এলাকার জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।

এর আগেও একবার পরিষ্কার অভিযানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বিডি ক্লিনের সহযোগিতায় নদীর একটি অংশ কচুরিপানা ও ময়লা-আবর্জনামুক্ত করা হয়। তবে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবে সেই উদ্যোগ স্থায়ী রূপ পায়নি।

এ বিষয়ে চুনারুঘাট পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, মরা খোয়াই নদীটি শুধু একটি পরিত্যক্ত জলাধার নয়, এটি হতে পারে চুনারুঘাটের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। এটিকে একটি পরিকল্পিত পর্যটন করিডোরে রূপ দেওয়া যেতে পারে। পৌরসভা পর্যায় থেকে আমরা একটি প্রাথমিক নকশা ও প্রস্তাবনা তৈরির কাজ শুরু করেছি। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সহায়তা পেলে কাজ শুরু করা সম্ভব।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, আমরা ছোটবেলায় এই নদীতে গোসল করতাম, নৌকা চলত। এখন তাকালেই মন খারাপ হয়ে যায়। এখানে যদি পার্ক করা হয়, হাঁটার রাস্তা ও বসার ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে মানুষজন আসবে এবং এলাকার ব্যবসাও বাড়বে।

আরেক বাসিন্দা কলেজছাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, চুনারুঘাটে তরুণ-তরুণীদের সময় কাটানোর মতো তেমন কোনো ভালো জায়গা নেই। নদীটি আধুনিকভাবে সাজানো হলে এটি আমাদের জন্য একটি সুন্দর বিনোদনকেন্দ্র হয়ে উঠবে।

এ বিষয়ে পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী টিটন দাশ বলেন, প্রাথমিকভাবে নদীটি পুনঃখনন, কচুরিপানা অপসারণ, দুই পাড় শক্তিশালীকরণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন ও সবুজায়নের পরিকল্পনা নেওয়া যেতে পারে। পর্যায়ক্রমে লেক, পায়ে হাঁটার পথ, বসার স্থান, নৌকাভ্রমণ সুবিধা ও ইকো-পার্ক গড়ে তোলা সম্ভব। এ জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ডিপিপি (ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল) তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হলে কাজ শুরু করা হবে।

সচেতন মহল মনে করছেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শুধু সৌন্দর্যই বাড়বে না, সৃষ্টি হবে নতুন কর্মসংস্থান, বাড়বে পর্যটন আয়, পাশাপাশি রক্ষা পাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক জলাধার।

চুনারুঘাট পৌরসভা, উপজেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সমন্বিত উদ্যোগে ‘মরা খোয়াই’ নদীকে একটি পরিকল্পিত নদীকেন্দ্রিক পর্যটন প্রকল্পে রূপান্তরের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, অবহেলা নয়—এবার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে ‘মরা খোয়াই’ হয়ে উঠুক চুনারুঘাটের নতুন স্বপ্নের ঠিকানা।

হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এসএম ফয়সল বলেন, মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলাকে সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিবেশবান্ধব পর্যটন শিল্পে গড়ে তোলা এবং চুনারুঘাট পৌরশহর দিয়ে বয়ে যাওয়া মরা নদীকে পর্যটন নগরী ও বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» রংপুরে ফিলিং স্টেশনগুলোতে পেট্রোল ও অকটেনের সংকট, গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক

সম্প্রতি