রাসায়নিক নকল দুধ তৈরি: তিন প্রতিষ্ঠানকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানা

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

পাবনার ফরিদপুর উপজেলার ডেমরা বাজারে ডালডা, ইউরিয়া, ডিটারজেন্ট ও হাইড্রোজেন পার-অক্সাইডের মতো মারাত্মক ক্ষতিকর রাসায়নিক দিয়ে তৈরি করা হচ্ছিল নকল দুধ ও ঘি।

https://sangbad.net.bd/images/2026/March/09Mar26/news/WhatsApp%20Image%202026-03-09%20at%209.41.43%20PM.jpeg

এমন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ওই এলাকায় অভিযান চালায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।

অভিযানে তিনটি দুগ্ধ উৎপাদন ও সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানকে মোট সাড়ে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে জব্দ করা বিপুল পরিমাণ বিষাক্ত রাসায়নিক, ভেজাল ডালডা ও পাউডার ধ্বংস করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পাবনা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে উপজেলার ডেমরা কেয়া ডেইরিতে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে ডিটারজেন্ট পাউডার ও হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড ব্যবহার করে নকল দুধ তৈরির হাতেনাতে প্রমাণ পান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এই অপরাধে কেয়া ডেইরির স্বত্বাধিকারী আয়েশা সিদ্দিকা কেয়াকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন ফরিদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ইমামা বানীন।

এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী আমিনা ডেইরিকে ৩০ হাজার টাকা এবং প্রিমিয়াম ফুডকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে ভেজাল দুধ তৈরি এবং অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দুধ সংরক্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ডেমরা ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন এসব ভেজাল কারখানার নেপথ্যে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জুয়েল রানার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। অভিযানের পর থেকে জুয়েল রানার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে এবং তিনি বর্তমানে এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। প্রশাসনের উপস্থিতিতে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডের নেপথ্য নায়কদের নাম উঠে আসায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পাবনা জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাহমুদ হাসান রনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ অঞ্চলে ভেজাল দুধ ও ঘিয়ের বিস্তার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে, যা রোধে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সোচ্চার হতে হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ইমামা বানীন বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ এমন কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় না দিয়ে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» রংপুরে ফিলিং স্টেশনগুলোতে পেট্রোল ও অকটেনের সংকট, গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক

সম্প্রতি