image
শ্রীমঙ্গল : মাঠজুড়ে সূর্যমুখী খেত -সংবাদ

চায়ের রাজ্যে বাড়ছে সূর্যমুখী ফুলের সম্ভাবনা শ্রীমঙ্গল: সূর্যমুখী চাষ বিস্তার লাভ করছে

প্রতিনিধি, শ্রীমঙ্গল

চা-বাগানের সবুজ ঢেউ, পাহাড়ি টিলার ছায়া আর আনারসের সুবাসে ঘেরা মৌলভীবাজারে এবার চোখে পড়ছে আরেক নতুন রঙ হলুদ। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ধান ও আনারসের পাশাপাশি সূর্যমুখী চাষ দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। মাঠজুড়ে ফুটে থাকা হলুদ ফুল যেন জানান দিচ্ছে কৃষিতে যুক্ত হচ্ছে সম্ভাবনার নতুন অধ্যায়।

সদর উপজেলার আকবরপুর কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ জমিতে সারি সারি সূর্যমুখী ফুল ফুটে আছে। সবুজ পাতার ফাঁকে বড় আকারের হলুদ ফুলগুলো সূর্যের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে- দূর থেকে মনে হয় যেন সূর্যের টুকরো নেমে এসেছে জমিনে। একই দৃশ্য মিলেছে শ্রীমঙ্গলের লাহারপুর ও ভূনবীর ইউনিয়নের পশ্চিম লইয়ারকুল এলাকাতেও। প্রতিদিন স্থানীয় দর্শনার্থীরা এসব ক্ষেত দেখতে ও ছবি তুলতে ভিড় করছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় মোট ১৪৭ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছে। এর মধ্যে জুড়ী উপজেলায় সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে এসব জমি থেকে সহস্রাধিক মণ বীজ উৎপাদনের আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শ্রীমঙ্গলের কৃষক আব্দুর রহিম (মিন্টু মিয়া) জানান, ১৫ শতক জমিতে সূর্যমুখী চাষে তার খরচ হয়েছে প্রায় সাত হাজার টাকা। কম পরিচর্যায় ভালো ফলনের আশা করছেন তিনি। অন্যদিকে খলিল মিয়া সাত শতক জমিতে চাষ করে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা ব্যয় করেছেন এবং দুই থেকে তিন মণ বীজ পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন। তাদের মতে, ধান বা অন্যান্য ফসলের তুলনায় সূর্যমুখী চাষে ঝুঁকি কম এবং লাভের সম্ভাবনা বেশি।

জেলা সদরের আকবরপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত বারী-৩ জাতের সূর্যমুখী এবার চাষ হয়েছে। এ জাত তুলনামূলক খাটো হলেও ফুল বড় এবং উৎপাদনশীলতা বেশি। কৃষি কর্মকর্তারা জানান, সঠিক পরিচর্যা করলে প্রতি বিঘায় ছয় থেকে সাড়ে ছয় মণ পর্যন্ত বীজ পাওয়া সম্ভব। কৃষি বিভাগের প্রণোদনা ও কারিগরি সহায়তা কৃষকদের আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

পুষ্টিবিদদের মতে, সূর্যমুখী তেল কোলেস্টেরল কম এবং ভিটামিনসমৃদ্ধ হওয়ায় এটি স্বাস্থ্যসম্মত ভোজ্যতেল হিসেবে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। দেশে ভোজ্যতেলের বড় অংশ আমদানিনির্ভর। স্থানীয়ভাবে সূর্যমুখী চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে আমদানি ব্যয় কমানো সম্ভব হবে, পাশাপাশি কৃষকরাও লাভবান হবেন।

ধান ও আনারসপ্রধান অঞ্চলে সূর্যমুখী যুক্ত হওয়ায় ফসল বৈচিত্র্য বাড়ছে। জলাবদ্ধতা কম থাকে এমন জমিতে এই ফসল ভালো ফলন দেয়, ফলে অনেক কৃষক বিকল্প আয়ের উৎস হিসেবে সূর্যমুখীকে বেছে নিচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পিত বাজারব্যবস্থা, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে সূর্যমুখী হতে পারে জেলার অন্যতম সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল।

সব মিলিয়ে মৌলভীবাজারের মাঠে ফুটে ওঠা সূর্যমুখী শুধু প্রকৃতির শোভা বাড়াচ্ছে না- এটি কৃষকের স্বাবলম্বিতা, পুষ্টি নিরাপত্তা এবং স্থানীয় অর্থনীতির শক্ত ভিত্তি গড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। চায়ের রাজ্যে এই হলুদ সমারোহ তাই এখন সম্ভাবনার প্রতীক।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» তিস্তা-ব্রহ্মপুত্রের চরে গো-খাদ্যের তীব্র সংকট : বিপাকে লাখো খামারি

সম্প্রতি