image
সিরাজগঞ্জ : চরে আবাদ হচ্ছে মরিচ -সংবাদ

সিরাজগঞ্জে যমুনার বুকজুড়ে জেগে উঠা চরে আবাদ হচ্ছে বিভিন্ন ফসল

জেলা বার্তা পরিবেশক, সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জে যমুনার বুক জুড়ে জেগে উঠা বিকেল চরে এখন নানা ফসলের সমারহ। কৃষক পরিবারগুলোতে ফিরছে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা। বর্ষার সময় প্রতি বছরই যমুনা চরের মানুষের জীবনে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। এ সময় তারা বাড়ি ঘর ছেড়ে আশ্রয় নেয় অন্যত্র। পরিবার পরিজন নিয়ে তাদের পরতে হয় বিপাকে। এ সময় তাদের কষ্টের সীমা থাকে না। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা আশায় বুক বাঁধে। আবার তারা চরে এসে বসতি স্থাপন করে। জমিগুলোতে নতুন পলি পরায় জমির উর্বরা শক্তি বৃদ্ধি পাওয়ায় অল্প খরচে প্রচুর পরিমাণ ফসল জন্মেছে। ইতোমধ্যেই জেলার কাজিপুর থেকে শুরু করে চৌহালি পর্যন্ত অসংখ্য চরে নানা ধরনের সবজিসহ বাদাম, ভুট্টা, গম, মরিচ, পেঁয়াজ, রসুন, ধানসহ নানা ধরনের ফসলের ব্যাপক চাষ হয়েছে। স্থানীয় কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে যমুনা চরে মোট জমির পরিমাণ রয়েছে ৬৮০৩৫ হেক্টর এর মধ্যে আবাদযোগ্য জমি রয়েছে ৪৬৭৫০ হেক্টর। এই সব জমিতে আধুনিক পদ্ধতিতে ভুট্টা, বাদাম, মরিচ, খেসারি, মসুরসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি ও ফসলের চাষ হয়েছে।

নতুন পলিমাটিতে এইসব ফসলের ফলন ও হয়েছে বেশ ভালো। এতে এই সব চরের কৃষকরা খুব খুশি। জানা গেছে প্রতি হাটেই লাখ লাখ টাকার শুধু মরিচই বিক্রি হয়। নাটুয়া পাড়া চরের কৃষক আবুল হোসেন জানান, প্রতি বছরই তারা নদীর পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন পলি মাটি পরা জমিতে মরিচ চাষ করেন। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মরিচের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। এ বছর সে ২ বিঘা জমিতে লক্ষাধিক টাকার মরিচ বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন। তবে সে আক্ষেপ করে বলেন যে আমাদের চরে অল্প খরচে প্রচুর ফসল হলেও যোগাযোগ ব্যাবস্থা ভালো না থাকায় আমরা এই গুলো সহজে অন্যত্র নিতে পারিনা যে কারণে ন্যয্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।

ইতোমধ্যেই সিরাজগঞ্জের চরে উৎপাদিত মরিচের সুনাম সারা দেশব্যাপী ছড়িয়ে পরেছে। দেশের বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা এসে এইগুলো কিনে নিয়ে যায়। শুষ্ক মৌসুমে চরগুলিতে প্রচুর পরিমাণে ঘাস জন্মে যে কারণে অনেকেই এখন বাণিজ্যিকভাবে গবাদি খামার গড়ে তুলেছে। প্রচুর ঘাস থাকায় গবাদি পশু পালনে তেমন খরচ না হওয়ায় কৃষকরা বেশ লাভবান হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বেলটার চরের কৃষক হোসেন আলী জানান, সে আবাদের পাশাপাশি গবাদি পশুর একটি খামার করেছেন। তার খামারে তিনটি গাভী ও দুটি ষাড় আছে। তিনটির মধ্যে দুটি গাভী প্রতিদিন ১২ লিটার করে দুধ দিচ্ছে। যার বাজার মূল্য ৯৬০ টাকা। এখন চরে ঘাস থাকায় তার তেমন খরচ নেই যে হচ্ছে তার প্রায় পুরোটাই থেকে যাচ্ছে। আর আগামী কোরবানিতে ষাড় দুটি বিক্রি করলে দেড় দুই লাখ টাকা বিক্রি করা যাবে। সে জানায় তার মত অনেকেই বাড়তি আয়ের জন্য কৃষির পাশাপাশি গবাদি পশুর খামার করে লাভবান হচ্ছে। স্বল্প খরচে ফসল উৎপাদন করতে পেরে চরবাসীরা খুশি হলেও উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে গিয়ে তাদের হাসি মুখখানি মলিন হয়ে যায়। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উৎপাদিত ফসল বিক্রি করতে গিয়ে যখন তারা ন্যায্যমূল্য থেতে বঞ্চিত হয়। কারন চরে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় তাদের উৎপাদিত পণ্য নিয়ে বিপাকে পরতে হয়। যে কারণে অনেক সময়ই তারা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অভিজ্ঞ মহলের মতে এব্যপারে কার্যকরি উদ্যোগ নিলে সিরাজগঞ্জের চরবাসীদের জীবনমান উন্নয়নেসর পাশাপাশি অর্থনৈতিক বৈল্পবিক পরিবর্তন ঘটবে যা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক একেএম মঞ্জুরে মওলা জনান, যমুনার পলী মাটিতে প্রচুর পরিমাণ ফসল জন্মে। এতে খরচ ও কম হয়। এ ছাড়া পলি মাটিতে কাঁচা ঘাস হওয়ায় পশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কাচা ঘাস খাওয়ানো হলে গরু দুধ বৃদ্ধি পায়। তাছাড়াও গরু মোটাতাজা করণে বিশেষ সহায়ক হিসেবে কাজ করে। যে কারণে চর এলাকার কৃষক পরিবারগুলোতে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ফিরে এসেছে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» তিস্তা-ব্রহ্মপুত্রের চরে গো-খাদ্যের তীব্র সংকট : বিপাকে লাখো খামারি

সম্প্রতি