টাঙ্গাইলের মধুপুরে ঘর নির্মাণে বাধা, ভাঙচুর ও এক গারো পরিবারকে হেনস্তার অভিযোগে তিনজন আনসার সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে দুই বান্ডিল ঢেউটিন ও ছয় হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয় এবং ঘর নির্মাণে প্রয়োজনীয় খুঁটি দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে মধুপুর উপজেলার ধরাটি গ্রামের কালাপাহাড় এলাকায় অবস্থিত চাঁদপুর রাবার এস্টেটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার রাবার বাগানের জমি উদ্ধারের অংশ হিসেবে বাগান ব্যবস্থাপক আমানুল্লাহর নেতৃত্বে সেখানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় একটি গারো পরিবারের বসতঘর ভাঙচুর ও বাড়ির আশপাশের কিছু গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ ওঠে।
ভুক্তভোগী রমেন কুবি ও শিবলি মাংসাং দম্পতি অভিযোগ করেন, রাবার বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত নোটিশ ছাড়াই বাগান কর্তৃপক্ষের স্টাফ ও আনসার সদস্যরা তাদের ঘর উচ্ছেদ করতে আসে। তারা স্থানীয়দের কাছ থেকে টাকা দিয়ে জমি নিয়ে সেখানে বসবাস করছিলেন বলে দাবি করেন।
ঘটনার সময় বাড়ির এক নারী সন্তানকে পিঠে বেঁধে বাড়ির কাজ করছিলেন। এ সময় আনসার সদস্যরা ঘর নির্মাণে বাধা দিলে তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
তবে রাবার বাগান কর্তৃপক্ষ জানায়, রাবার বিভাগের দখলে থাকা জমি উদ্ধার করতে নিয়মিত অভিযান চালানো হয়। এর অংশ হিসেবেই ওই অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
ঘটনার পর মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মির্জা জুবায়ের হোসেন, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাফর ইকবাল, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রাজীব আল রানা এবং রাবার জোনের জিএম ইসমাইল হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় আদিবাসী নেতৃবৃন্দ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।
পরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে পুনর্বাসনের জন্য দুই বান্ডিল ঢেউটিন, ছয় হাজার টাকা এবং ঘর নির্মাণের খুঁটির খরচ বহনের আশ্বাস দেওয়া হয়।
মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মির্জা জুবায়ের হোসেন বলেন, খবর পেয়ে তিনি প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজন আনসার সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।