image
যশোর : বোরো মৌসুমে ধানের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ডিজেল সংকট নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা -সংবাদ

কেশবপুরে ডিজেল সংকটে ঝুঁকিতে বোরো আবাদ

প্রতিনিধি, কেশবপুর (যশোর)

যশোরের কেশবপুরে বোরো মৌসুমে ধানের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ডিজেল সংকট নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। পাম্প ও স্থানীয় বাজারে চাহিদামতো ডিজেল না পওয়ায় সময়মতো জমিতে পানি দিতে পারছেন না তারা। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, এ বছর ১৩ হাজার ৩০৭ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। যা থেকে ৮৯ হাজার ৩৪৪ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই ধান উৎপাদনে নিরবিচ্ছন্ন ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলনে ডিজেল চালিত এলএলবিসহ ৫ হাজার ২৭৫টি মেশিন ও বিদ্যুৎচালিত গভীর নলকূপ ৫২টি, এলএলবিসহ অগভীর নলকূপ ২ হাজার ১৬২টি রয়েছে। এ ছাড়া সৌর বিদ্যুৎচালিত পাম্প রয়েছে ৪টি। এর মধ্যে ডিজেলচালিত সেচ পাম্প দিয়ে ৫ হাজার ৩৯৭ হেক্টর কৃষিজমিতে সেচ দেয়া হয়। অবশিষ্ট জমিতে বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প দিয়ে আবাদ করা হয়। এর জন্যে প্রতিদিন ডিজেলের প্রয়োজন রয়েছে ১৫ হাজার ৭৮৫ লিটার। এ উপজেলার ৫টি ফিলিং স্টেশন থেকে কৃষকরা ডিজেল সংগ্রহ করে থাকেন। এসব পাম্পে কখন ডিজেল আসে, আর কখন শেষ হয় তা কৃষকরা জানেন না। যার কারণে কৃষকরা সময়মতো ইরি/বোরো ধানে পানি সেচ দিতে পারছে না।

উপজেলার মজিদপুর গ্রামের কৃষক মাসুদুজ্জামান বলেন, তার ব্লকের অধীনে ৫ বিঘা জমি রয়েছে। জমিতে সেচ দিতে তিনি ডিজেল চালিত শ্যালো মেশিন ব্যবহার করেন। সময়মতো সার, বীজ, কীটনাশক ও পরিচর্যা করায় অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর ধানের ভালো ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু হঠাৎ ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। সময়মতো পানি দিতে না পারলে ভালো ফলন থেকে তিনি বঞ্চিত হবেন। গত মঙ্গলবার ২ লিটার ডিজেল কিনতে পেরেছি। তা দিয়েই সেচ দিয়েছি। আর কবে পাব তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছি।

বাগদা গ্রামের কৃষক অলিয়ার রহমান জানান, তিনি এ বছর এক বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছেন। খেতের ধান কাইচ থোড় পর্যায়ে রয়েছে। এখন জমিতে টানের সময়, পানির খুবই দরকার। দোকানে দোকানে ঘুরেও ডিজেল পাচ্ছি না। শূন্য হাতে বাড়ি ফিরছি। ধান খেতে পানি নাই। খুব দুশ্চিন্তায় রয়েছি। আগে স্থানীয় বাজারে ১০৫ টাকায় এক লিটার ডিজেল পাওয়া যেত। এখন তা ১১০ টাকা থেকে ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাও মিলছে না।

গত বুধবার সরেজমিন শহরের ৩টি পাম্প পরিদর্শনকালে দেখা গেছে, প্রেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল না থাকায় পাম্পগুলো বন্ধ রয়েছে। কৃষকরা তেলের টপ নিয়ে তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

স্থানীয় বাজারের ডিজেল ব্যবসায়ীরা জানান, ১০ দিন আগে থেকে তারা ডিজেল পাচ্ছেন না। এ কারণে ডিজেল বিক্রি বন্ধ রয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। কেউ বেশি দামে ডিজেল বিক্রি করলে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা করা হবে। তিনি আরও বলেন, এ উপজেলার মাছের ঘেরে ৩২শ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। গত বুধবার উপজেলা সেচ কমিটির সভা হলেও এর জন্যে কোনো ডিজেল বরাদ্দ নাই।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি