চুক্তি অনুযায়ী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ কয়লা গ্রহণ না করা এবং ভূগর্ভ থেকে পুরোদমে কয়লা উত্তোলন অব্যাহত থাকায় ইয়ার্ডের মজুত কয়লা নিয়ে চরম মহা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি কর্তৃপক্ষ।
বড়পুুকুরিয়া কয়লাখনির কোল ইয়ার্ডের কয়লা মজুতের ধারণ ক্ষমতা দুই লাখ মেট্রিক টন। কিন্তু বর্তমানে সাড়ে তিন লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি কয়লা মজুত থাকায় স্তূপের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় প্রায়ই আগুন ধরছে কয়লার স্তূপে। এতে কয়লা পুড়ে নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির জন্য।
এদিকে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির উৎপাদিত কয়লার ক্রেতা একমাত্র পার্শ্ববর্তী ৫২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। কিন্তু তাপবিদ্যুতের তিনটি ইউনিটের মধ্যে পর্যায়ক্রমে একের পর এক বন্ধ হয়ে যাওয়াসহ মেরামত কার্যক্রম দীর্ঘসূত্রতার জন্য কয়লার ব্যবহার কমে যাওয়ায় কোল ইয়ার্ডে মজুতের পাহার গড়ে উঠছে।
বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ভূগর্ভ থেকে প্রতিদিন গড়ে তিন হাজার মেট্রিক টন কয়লা উত্তোলন করা হলেও তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের চাহিদা মাত্র ৭০০ মেট্রিক টন। এতে করে প্রতিদিন দুই হাজার মেট্রিক টনেরও বেশি কয়লা মজুত থাকছে। কোল ইয়ার্ডে জায়গার অভাবে অস্বাভাবিক উচ্চতায় কয়লা মজুত রাখায় মারাত্মক ঝুঁকি বাড়ছে। এনিয়ে মহাদুশ্চিন্তায় খনি কর্তৃপক্ষ।
বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি কর্তৃপক্ষ বলছেন, সরকারি নিষেধাজ্ঞার আগে কোল ইয়ার্ড থেকে খোলা বাজারে কয়লা বিক্রি করা হতো। এতে উৎপাদন ও বিক্রির মধ্যে সমন্বয় থাকতো। এতে মজুত নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা থাকতো না। এছাড়াও সে সময় বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিনটি ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ৫২৫ মেগাওয়াট। এতে প্রতিদিন কয়লার প্রয়োজন হতো সাড়ে চার হাজার মেট্রিক টন।
বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিনটি ইউনিটের মধ্যে বতর্মানে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন ১নং ইউনিটটি চালু রয়েছে। এই ইউনিট চালু রাখতে প্রতিদিন ৭০০ মেট্রিক টন কয়লার প্রয়োজন হচ্ছে। ২নং ইউনিটটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২০২০ সালের নম্বর থেকে পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে রয়েছে। আর ওভারহোলিং কাজের জন্য ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন ৩নং ইউনিটটি চালু করতে আরও অন্তত তিন মাস সময় লাগতে পারে। এই ইউনিটটি চালু হলে এরজন্য প্রতিদিন দুই হাজার ২০০ থেকে আড়াই হাজার মেট্রিক টন কয়লার প্রয়োজন হবে।
তিনি আরও বলেন, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের চাহিদা কমে যাওয়ায় কয়লাখনি কর্তৃপক্ষকে কয়লা উত্তোলন বন্ধ রাখতে বলা হলেও তারা কয়লা উত্তোলন অব্যাহত রেখেছেন বলে অতিরিক্ত কয়লার মজুত গড়ে উঠেছে। উত্তোলন বন্ধ রাখলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিএমসিএল) মহাব্যবস্থাপক (জিএম) খান মো. জাফর সাদিক বলেন, সরকারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী খনির চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কয়লা উত্তোলন করছে। আমরা চাইলেও চলমান এই কয়লা উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ রাখা সম্ভব নয়। ভূগর্ভে নানা জটিলতা ও দুর্ঘটনা এড়াতে কয়লা উত্তোলন চালিয়ে যাওয়ার কোনো বিকল্প নেই।
বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিএমসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শাহ আলম বলেন, কোল ইয়ার্ডের ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণ কয়লা মজুত হয়ে স্তূপাকারে রাখা হয়েছে, যেখানে প্রায়ই আগুন ধরার ঘটনা ঘটছে। স্তূপে যাতে আগুন না লাগে সেজন্য সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে। তবে চুক্তি অনুযায়ী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ কয়লা গ্রহণ করলে এমন অবস্থার সৃষ্টি হতো না।