image
ছবিঃ সংগৃহীত

ভিজিএফের তালিকা তৈরিতে অনিয়ম

প্রতিনিধি, উলিপুর (কুড়িগ্রাম)

কুড়িগ্রামের উলিপুরে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দুঃস্থদের মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণের তালিকা তৈরিতে অনিয়ম করার অভিযোগে ধরণীবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এরশাদুল হকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে তিনি আহত হলে চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্স যোগে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে স্বজন সূত্রে জানা গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ধরণীবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদে। উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস সূত্রে জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল ফিতর-২৬ উপলক্ষে অতিদরিদ্র, অসহায় ও দুঃস্থ ব্যক্তিদের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হবে। উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় ৮৩ হাজার ৩৭ জন্য ব্যক্তির বিপরীতে ৮৩ মে. টন ৩৭০ কেজি চাল বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। ধরণীবাড়ি ইউনিয়নে ৬ হাজার ৮শ’ ব্যক্তি এই সুবিধা পাবেন। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা সুবিধাভোগীদের তালিকা তৈরি করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধরণীবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ইউপি সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও সুশিল সমাজের উপস্থিতিতে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ৪, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ডের হতদরিদ্র মানুষের তালিকা তৈরির জন্য যাচাই-বাচাই হবে। কিন্তু চেয়ারম্যান এরশাদুল হক সকালে এসে তার অনুসারী ও পছন্দের ব্যক্তিদের কাছ থেকে আইডি কার্ডের ফটোকপি জমা নেন। পরে দুপুরে ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যরা ও সাধারণ মানুষ এসে জানতে পারেন তালিকা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। পরে বিকেলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে চেয়ারম্যানের কাছে তালিকা তৈরিতে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চান। সুবিধাভোগী বাছাইয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ইউপি সদস্যরা ও স্থানীয় জনগণ চেয়ারম্যানের সঙ্গে পরিষদে কথা কাটাকাটিতে লিপ্ত হন। এ ঘটনায় চেয়ারম্যানসহ তার অনুসারীদের সঙ্গে সাধারণ জনগন ও ইউপি সদস্যদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় চেয়ারম্যান এরশাদুল হক গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে উদ্ধার করে পরিবারের লোকজন চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্স যোগে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রওনা দেন।

ধরাণীবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহজাহান আলী বলেন, পরিষদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সবার সমন্বয়ে দুঃস্থদের তালিকা তৈরির কথা থাকলেও চেয়ারম্যান তার অনুসারীদের নিয়ে আগেই তালিকা তৈরি করেন। এ ঘটনায় বঞ্চিত জনগণ ক্ষিপ্ত হয়ে চেয়ারম্যানের কাছে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে রংপুর হাসাপাতলে থাকা ধরণীবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের ছোট ভাই ওবায়দুল হক জানান, চিকিৎসার জন্য চেয়ারম্যানকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তিনি চেয়ারম্যানের বরাত দিয়ে জানান, স্বচ্ছ-তালিকা তৈরির জন্য উদ্দোগ নিলে ইউপি সদস্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে চেয়ারম্যানের ওপর হামলা চালায়।

উলিপুর থানার ওসি সাঈদ ইবনে সিদ্দিক জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনার কিছুটা সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান বলেন, চেয়ারম্যানের সঙ্গে ইউপি সদস্যদের হাতাহাতির কথা শুনেছি। গতকাল বৃহস্পতিবার ওই পরিষদের সব ইউপি সদস্য চেয়ারম্যান এরশাদুল হকের বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়ে আমার দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি