মাদারীপুরের শিবচরে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান রোড প্রটেকশন গাইড ওয়াল নির্মাণে কলাগাছ ব্যবহার করার অভিযোগ উঠায় দ্রুত কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে দ্রুত বদলে ফেলা হয়েছে সেই প্রটেকশন দেয়াল।
এর আগে মাদারীপুরের শিবচরে রাস্তার পাশে প্রটেকশন গাইড ওয়াল নির্মাণে ইটের গাঁথুনির নিচে কলা গাছ দেয়ার বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর। বিষয়টি নির্বাচনকালীন সময়ে ঠিকাদার কর্তৃক হওয়ায় দুঃখও প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। এমন ভুল যেন আগামীতে না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখার তাগিদ কর্তৃপক্ষের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার শিবচর উপজেলার শিরুয়াইল ইউনিয়ন ৭ নম্বর ওয়ার্ড চরকাকইর চৌরাস্তা মোড়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্মাণাধীন সড়কের প্রটেকশন গাইড ওয়াল নির্মাণে নিচের অংশে কলাগাছের ব্যবহার করা হয়। এমন অনিয়ম স্থানীয়দের নজরে পড়লে তারা ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে জেলা জুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পরে শিবচর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর সরেজমিনে গিয়ে রাতারাতিই সেসব কলা গাছ উপরে ফেলে নতুন করে সেখানে রোড প্রটেকশন গাইড ওয়াল নির্মাণ করেন।
শিবচর উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ছয় মাস আগে উপজেলার শিরুয়াইল ইউনিয়নের সাদেকাবাদ হয়ে সিপাইকান্দি থেকে মুন্সীকান্দি গ্রাম পর্যন্ত জিওবি’র অর্থায়নে সড়কের প্রটেকশন গাইড ওয়াল নির্মাণ কাজ শুরু করেন মের্সাস মনির কনস্ট্রাসন। যেখানে ব্যয় ধরা হয় ৬৪ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। ১ হাজার ৫৫৫ মিটার দৈর্র্ঘ্যরে সড়কটির বেশ কিছু জায়গায় গাইড ওয়াল ধরা হয়। কিন্তু শুরু থেকেই নির্মাণ কাজে ধীরগতি ছিল। কয়েকদিন আগে ইট ও পিলার এনে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়কের এক পাশে শুরু করে গাইড ওয়ালের কাজ। যার ৫ মিটার স্থানে গাইড ওয়ালের নিচে কলা গাছ দিয়ে নির্মাণ করেন ঠিকাদার। পরে সেটি তুলে নতুন করে কাজ করা হয়। কাজটি এ বছরের মার্চ মাসের ৩০ তারিখে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোতালেব হোসেন বলেন, ‘রাস্তাটি আমাদের জন্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখান দিয়ে হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে। তবে কিছু জায়গায় কলাগাছ দিলে তার প্রতিবাদ করি। পরে শিবচর থেকে প্রকৌশলীরা এসে সেসব গাছ উঠিয়ে নতুন করে প্রটেকশন গাইড ওয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। নতুন করে নির্মাণ করা গাইড ওয়াল খুব ভালো ভাবে টেকসই করে করা হয়েছে। এই সড়ক ব্যবহার করে এই এলাকার কয়েক হাজার মানুষ উপজেলা সদরসহ সারাদেশে যাতায়াত করি।’
আরেক স্থানীয় আবদুল হক বলেন, ‘নির্বাচনের ঠিক আগের দিন ও নির্বাচনের দিন ঠিকাদার তার শ্রমিকদের দিয়ে কলাগাছ নিচে দিয়ে ওয়াল তৈরি করেন। কিন্তু পরে এলজিইডির লোকজন এসে কলাগাছ দেখে দ্রুতই সমাধান করেছে। এবং এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি টেকসই করে তৈরি করেছে। তবে তাদের ধন্যবাদ দেই, যে তারা দ্রুতই এই সমস্যাটির সমাধান করে ফেলছে। নির্বাচনের সময়ে তাড়াতাড়ি কাজ করায় এমনটাই হয়েছে। এখানে নির্বাচনের সময় কাজের সাইডে সরকারি কর্মকর্তারা থাকতে পারেনি। তারা নির্বাচন নিয়ে তখন ব্যস্ত ছিল। সেই সুযোগে এই অপকর্মটি করা হয়েছিল। আমরা তা পরে বুঝতে পেরেছি।’
এই কাজের সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমাকে রাজমিস্ত্রি কিছু জানায়নি। যে মিস্ত্রি কাজ করে তাকে বলেছি এমন কাজ কেন করা হলো? আমি তাকে এমন কিছু করতে বলিনি। যে হয়ত ভুলে করেছে। তবে সিডিউল অনুসারে কাজটি করা হয়েছে। এমন ভুল আর হবেও না। নির্বাচনের সময়ে রাস্তাটি দ্রুত মেরামতের জন্যে তাড়াহুড়া করে এমনটা হয়েছে। পরে এলজিইডি’র স্যারেরা উপস্থিত থেকে নতুন করে সেখানে গাইড ওয়াল নির্মাণ করিয়েছে আমাদের দিয়ে। আশা করছি, গাইড ওয়াল আগের চেয়ে এখন বেশি টেকসই হয়েছে।’
এব্যাপারে শিবচর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী কে.এম. রেজাউল করিম বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়ে ঠিকাদারের লোকজন গাইড ওয়ালের নিচ কলাগাছ বসিয়ে ওয়াল নির্মাণ করেছি। তখন আমাদের অফিসের সব স্টাফরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একাধিক দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত ছিলাম বিধায় তখন ওই খানে আমাদের কোন কর্মকর্তা ছিল না। সেই সুযোগে এমন একটি অপকর্ম করে ফেলেছে। পরে আমাদের নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ওই দেয়াল তুলে ফেলে নতুন করে সেখানে সুন্দর করে রোড প্রটেকশন গাইড ওয়াল নির্মাণ করে দিয়েছি।
খেলা: এসএসপিএল ফিদে রেটিং দাবা