কুয়াকাটায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

প্রতিনিধি, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী)

পর্যটন নগরী কুয়াকাটায় বেড়িবাঁধের বাহিরে থাকা অর্ধশতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) দুপুরে কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জগতবন্ধু মন্ডল এ উচ্ছেদ অভিযান চালান।

এ সময় কুয়াকাটা পৌর মেয়র আনোয়ার হাওলাদার, কাউন্সিলর শহিদ দেওয়ান, আবুল হোসেন ফরাজী, মনির শরীফ ও মহিপুর ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আজিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। এসময় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। উচ্ছেদ অভিযান না চালানোর জন্য অনুরোধ করেন পৌর মেয়র ও কাউন্সিলররা। অনুরোধ উপেক্ষা করে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে তোপের মুখে পরেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এনিয়ে কাউন্সিলর, পৌর মেয়রের সঙ্গে বাকবিতন্ডা হয় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের। উচ্ছেদের প্রতিবাদ জানিয়ে আগামীকাল এসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ ঘূর্ণিঝড় ইয়াসে সমুদ্র সৈকতের প্রায় শতাধিক শুঁটকি ও ঝিনুক ব্যবসায়ীরা তাদের দোকান ঘর সরিয়ে নিয়ে সী-কুইন হোটেলের পূর্ব পাশের মাঠে নিয়ে রাখেন। এসব দোকানের বেশিরভাগই ঢেউয়ের তান্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলো মেরামত করে তারা অন্যত্র সরিয়ে যাবেন। এসব ক্ষতিগ্রস্ত ঘর মেরামতকালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ভাংচুর ও উচ্ছেদ করা হয়। ব্যবসায়ীরা আরো বলেন, মঞ্জুরুল আলম নামে এক ব্যক্তি এই জায়গার মালিকানা দাবি করে ভোগদখল করে আসছিলেন। তার অনুমতি নিয়েই তারা এখানে ঘর এনে রেখেছেন।

মহিপুর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মো. আজিজুর রহমান জানান, সরকারি জমিতে প্রভাবশালী একটি গ্রুপ ব্যক্তিগত মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ নিলে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে তা ভেঙ্গে দেয়া হয়। তিনি আরও জানান, বেড়িবাধেঁর বাইরে কোন স্থাপনা নির্মাণ করা সরকারিভাবে নিষিদ্ধ। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এসব ঘর নির্মাণ করা হচ্ছিলো।

কুয়াকাটা পৌর মেয়র বলেন, সৈকতের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা তাদের ভাঙ্গা দোকান মেরামত করছিল। মেরামত শেষে কিছুদিন পর এসব দোকানপাট অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যেত। অনুরোধ করার পরও এসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জগতবন্ধু মন্ডল বলেন, যে জমিতে ঘর তোলা হয়েছিল ওই জমি সরকারি। সরকারের নামে বিএস জরিপ রয়েছে। তাই সরকারি জমি থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এখানে কারও অনুরোধ রাখার সুযোগ নেই।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি