image

ডেঙ্গুতে একদিনে রোগী ভর্তির রেকর্ড, ২৮৫ জন

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

এক দিনে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্তের সর্বোচ্চ রেকর্ড ২৮৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যুও হয়েছে। এ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এখন ভর্তি আছে ৯৩৭ জন। আর চলতি বছরের পহেলা জানুয়ারি থেকে বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) সকাল ৮টা পর্যন্ত হাসপাতালে মোট ভর্তি হয়েছে ৪ হাজার ৮৭ জন। আর চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মারা গেছেন মোট ২৯ জন। কীটতত্ত্ব বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গুজ্বরের বাহক এডিশ মশার প্রজননস্থল ধ্বংস না করলে পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে ডেঙ্গুজ্বরের ভাইরাস এডিশ মশা নিয়ন্ত্রণে আগামী রোববার থেকে মাঠ পর্যায়ে কাজ করবেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি)র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রে। এ দিয়ে বৃহস্পতিবার সিটি করপোরেশন থেকে দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এডিশ মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের মাধ্যমে ডেঙ্গুজ্বর নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে। ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার জন্য ম্যাজিস্ট্রেটরা কাজ করবেন।

সিটি করপোরেশন থেকে বলা হয়েছে, এডিশ মশার প্রজনন স্থল ধ্বংস করা যেমন জরুরি তেমনি সাধারণ মানুষ যেন আরও বেশি সচেতন হয় তার জন্য গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ্ ইমাজেন্সি অ্যান্ড অপারেশন সেন্টারের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম জানান, ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত এখনও যারা হাসপাতালে ভর্তি আছেন তার মধ্যে রাজধানীর ৫৩টি হাসপাতালে ৭৬৬ জন ও অন্য বিভাগে ১৭১ জন।

হাসপাতালের তথ্য মতে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮১ জন, মিটফোর্ড হাসপাতালে ৮৯ জন, ঢাকা শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে ১০ জন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৬ জন, রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে ২৬ জন, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৭১ জন, কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে ১৬ জন ভর্তি আছে। এভাবে ঢাকার ২০টি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি আছে ৫৪০ জন। এছাড়াও ঢাকার বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালে অনেকেই ভর্তি আছে। ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামে ৬৭ জন, পর্যটন জেলা কক্্রবাজারে ৭ জন ভর্তি আছে। চট্টগ্রাম বিভাগে মোট ১১৭ ভর্তি আছে। অন্য বিভাগ ও জেলায় অনেকেই চিকিৎসাধীন আছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে বলা হয়েছে, ডেঙ্গুজ্বরের চিকিৎসায় দেশের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসার সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। চিকিৎসক ও নার্সদের ডেঙ্গুজ্বরের চিকিৎসার সব গাইডলাইন দেয়া হয়েছে। হাসপাতাল গুলোতে পর্যাপ্ত মশারির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, গেল বছর ডেঙ্গুজ্বরের ভাইরাস বহনকারি যে সব মশা ডিম পাড়ছে। ওই সব ডিম এই বছর বৃষ্টিতে ফুটেছে। ভাইরাস বহনকারি পূর্ণাঙ্গ মশা যাকে কামড় দিয়েছে তারাই ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তি শহর থেকে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার পর সেখানে তাকে নতুন করে কোন মশা কামড় দেয়। আর সেই মশা সুস্থ ব্যক্তিকে কামড় দিলে ওই ব্যক্তি ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হবে। এইভাবে রাজধানী থেকে বিভাগ ও বিভাগ থেকে জেলা ও গ্রাম পর্যায়ে ডেঙ্গু ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে। আর মানুষ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তারমধ্যে অনেকেই আবার মারাও যাচ্ছেন। প্রচন্ড গরম ও হঠাৎ বৃষ্টির মধ্যে ডেঙ্গুজ্বরের বাহক এডিশ মশার বিস্তার ঘটছে। ওই মশার কামড়ে বৃহস্পতিবার রেকর্ড সংখ্যা মানুষ আক্রান্ত হয়ে শুধু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আরও অনেকেই বাসা-বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের হিসাব জানা গেলে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অদূরে পুরানা পল্টনসহ বিভিন্ন স্থানে এখনও জনসচেতনতার অভাব রয়েছে। হাউজিং সোসাইটির খালি জায়গায় জমে থাকা পানিতে মশার উপদ্রব রয়েছে। মশা দমনে সচেতন হতে বললে উল্টো কথা বলেন। এইভাবে নয়া পল্টন, মতিঝিল, আরামবাগ, যাত্রাবাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে নির্মাণাধীন ভবনের ছাদে ও ওয়াসার মিটার রাখার গর্তে জমে থাকা পানিতে এডিশ মশার উপদ্রব রয়েছে। অভিযান চালালে এবং জরিমানা কিংবা সতর্ক করলে জনসচেতনতা বাড়তে পারে। আর অনেকেই পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করতে বলে অনেকেই মন্তব্য করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মশা দমনে বিশ্বের উন্নয়নশীল অনেক দেশে আলাদা বিভাগ আছে। ওই বিভাগে চাহিদা মত জনবল ও কীটতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ নিয়োগ নিয়ে বছর জুড়ে মশা দমন করেন। কিন্তু বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রে উন্নয়ন হলেও এখনও মশা দমনে উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি। যার কারণে গেল দুই হাজার সাল থেকে এখনও প্রতিবছর মশার কামড়ে বহু মানুষ মারা যাচ্ছে। অনেকেই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। আবার অনেকেই চিকিৎসা করতে গিয়ে আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে মশা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাড়তি খরচ হিসাবে বাসা-বাড়িতে এ্যারোসল কিংবা মশার অন্য ওষুধ কিনে ব্যবহার করতে হচ্ছে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» চকরিয়ায় গাড়ির ধাক্কায় মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি নিহত

» লালমোহনে শিশুর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

সম্প্রতি